ফেসবুক ব্যবহারকারীদের টাইমলাইনে ভেসে উঠেছে একটি বিশেষ নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট নোটিফিকেশন কার্ড। নীল-সাদা রঙের এই কার্ডে বড় অক্ষরে লেখা- “Get Ready to Vote in Bangladesh”। এর নিচে উল্লেখ করা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে-এমন তথ্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।
ফেসবুকের প্রদর্শিত এই নোটিফিকেশন কার্ডে মূলত চারটি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে: এটি নির্বাচনসংক্রান্ত একটি রিমাইন্ডার বার্তা,সম্ভাব্য নির্বাচনের তারিখ উল্লেখ,ব্যবহারকারীকে অফিসিয়াল তথ্য দেখার আহ্বান,নিচে প্রদর্শিত একটি সংখ্যা- “৩০৫৫৮”-“৫৪৯৮৫”।
সংখ্যাটি নিয়ে অনেক ব্যবহারকারীর মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও ফেসবুক (মেটা) সূত্র জানিয়েছে, এটি কোনো ভোটার সংখ্যা, ফলাফল বা সরকারি পরিসংখ্যান নয়। বরং এটি একটি এনগেজমেন্ট কাউন্ট,অর্থাৎ কতজন ব্যবহারকারী ইতোমধ্যে নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্যকেন্দ্রের কনটেন্টে প্রবেশ করেছেন বা সম্পৃক্ত হয়েছেন-তারই একটি নির্দেশক।
মেটার বৈশ্বিক নির্বাচন-নিরাপত্তা নীতিমালার অংশ হিসেবেই এ ধরনের কার্ড দেখানো হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতীয় নির্বাচন,গণভোট বা গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে মেটা চালু করে Election Information Center (EIC) বা “নির্বাচন তথ্যকেন্দ্র” কর্মসূচি।
এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য:ভোটারদের কাছে নির্ভরযোগ্য ও যাচাইকৃত তথ্য পৌঁছে দেওয়া, ভুয়া খবর ও গুজবের বিস্তার কমানো,ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো,নাগরিক অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা।
মেটা জানায়,ব্যবহারকারীর লোকেশন ডেটা, আইপি অ্যাড্রেস ও অ্যাকাউন্ট সেটিংস বিশ্লেষণ করে বোঝা যায় তিনি কোন দেশে অবস্থান করছেন। নির্বাচন ঘনিয়ে এলে সংশ্লিষ্ট দেশের ব্যবহারকারীদের নিউজফিডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই নোটিফিকেশন কার্ড প্রদর্শিত হয়।
কার্ডে ব্যবহারকারীর নাম যুক্ত থাকলেও এটি কোনো ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বা টার্গেটেড মতামত নয়,বরং একটি অটোমেটেড পাবলিক-ইনফরমেশন মেসেজ।
নোটিফিকেশনটিতে ক্লিক করলে ব্যবহারকারীকে নিয়ে যাওয়া হয় ফেসবুকের নির্বাচন তথ্যকেন্দ্রে। সেখানে সাধারণত পাওয়া যায়:
১) নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল তথ্য।
২) ভোটের তারিখ ও সময়সূচি।
৩) ভোটার নিবন্ধন সংক্রান্ত নির্দেশনা।
৪) ভোটার আইডি যাচাই পদ্ধতি।
৫) ভোটাধিকার প্রয়োগের ধাপসমূহ।
৬) নির্বাচনী নিরাপত্তা ও আচরণবিধি সংক্রান্ত তথ্য।
এসব তথ্য সরাসরি অনুমোদিত সরকারি ও বিশ্বস্ত প্রাতিষ্ঠানিক সূত্র থেকে সংকলিত বলে জানিয়েছে মেটা।
যুক্তরাষ্ট্র,ভারত,ইন্দোনেশিয়া,ব্রাজিলসহ বহু দেশে নির্বাচন ঘিরে একই ধরনের নোটিফিকেশন কার্ড ও তথ্যকেন্দ্র চালু করেছে মেটা। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নির্বাচনী ভুয়া তথ্য,সমন্বিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিমূলক কনটেন্ট মোকাবিলায় বিশেষ জোর দিচ্ছে।
ফেসবুকে প্রদর্শিত “Get Ready to Vote” কার্ডটি কোনো রাজনৈতিক প্রচারণা নয়; বরং ব্যবহারকারীদের সচেতন করতে তৈরি একটি তথ্যভিত্তিক ডিজিটাল রিমাইন্ডার। নির্বাচন সামনে এলে নির্ভুল তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং অনলাইন বিভ্রান্তি কমানোই এর মূল উদ্দেশ্য এনটাই জানিয়েছে মেটা।

