সত্যজিৎ দাস, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সিলেট ও মৌলভীবাজারে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ৪টি উপজেলা ও মোট ৩০৫টি ভোটকেন্দ্রে ১৩টি প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হচ্ছে।
শুক্রবার বিকেলে জুড়ী উপজেলার তৈয়বুন্নেছা খানম সরকারি কলেজে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্বাচনী দায়িত্ব কার্যকর ও সুশৃঙ্খলভাবে পালনের জন্য ৪টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যাম্প থেকে বিজিবি সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিজিবি এককভাবে, অন্য এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
মোতায়েনকৃত বিজিবি সদস্যরা প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ, যানবাহন ও আধুনিক সরঞ্জামসহ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তফসিল ঘোষণার পর থেকে বেইজ ক্যাম্পকেন্দ্রিক নিয়মিত টহল, রোড ব্লক ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সার্বক্ষণিক টহল, তল্লাশি ও গোয়েন্দা নজরদারি চলছে। “অপারেশন ডেভিল হান্ট (ফেজ-২)” এর আওতায় বিজিবি অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের অধীন ১৫টি বিওপির আওতাভুক্ত ১১৩.৫ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার রোধে টহল, নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ড্রোন ও বডি-ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
২৯ জানুয়ারি থেকে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, ডেটোনেটর, পাইপগান, নাশকতামূলক সরঞ্জাম ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে, যা সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিজিবি মহাপরিচালকের নির্দেশনা এবং সরকার ও নির্বাচন কমিশনের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। কোনো সহিংসতা, নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, উত্তর-পূর্ব রিজিয়ন আশা প্রকাশ করেছে, সরকার, নির্বাচন কমিশন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হবে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংবিধান ও আইনের আলোকে ভবিষ্যতেও দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার জানানো হয়েছে।

