বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তানকে নিয়ে একটি আঞ্চলিক সহযোগিতার কাঠামো গড়ার প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। ২০১৮ সালের পর বাংলাদেশ–পাকিস্তান সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক কূটনীতির আলোকে বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পাকিস্তান আশা করছে, বাংলাদেশ রাজি হলে খুব শিগ্রই ইসলামাবাদে চার দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক আয়োজন করা হবে। তবে নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি বৈঠকে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই।
ঢাকা ও ইসলামাবাদের কূটনৈতিক সূত্র জানায়, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে পাকিস্তান চার দেশের বৈঠকের প্রস্তাব পাঠায়। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগেই ইসলামাবাদে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। বাংলাদেশ প্রাথমিকভাবে পাকিস্তানের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছিল, তবে নির্বাচনের ঘনিষ্ঠতার কারণে এখনই অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, পাকিস্তান চার দেশকে নিয়ে একটি সহযোগিতার কাঠামো গড়ে তুলতে চায়। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের কারণে এই বৈঠক নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর আয়োজন করা হবে।
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের মধ্যে জানুয়ারিতে একাধিক ফোনালাপ ও বৈঠক হয়েছে। আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত ছিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা, ঢাকা–করাচি সরাসরি বিমান চলাচল পুনঃসূচনা, করাচি–চট্টগ্রাম পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পাকিস্তানের জেএফ–১৭ যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়।
গত বছরের জুনে চীনের কুনমিংয়ে ত্রিদেশীয় ফোরামের একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা হয়েছিল, তবে বাংলাদেশ অসম্মতি জানিয়েছিল। বাংলাদেশ যুক্তি দিয়েছিল যে, শ্রীলঙ্কা বা নেপাল ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় এ ধরনের জোট কার্যকর হবে না।
সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেন, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব বেড়েছে। চীন এবং পাকিস্তান বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে সক্রিয় হচ্ছে। তবে নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ ধাপে নতুন কোনো আঞ্চলিক উদ্যোগে যুক্ত হওয়া সমীচীন হবে কি না, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

