তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ আসন (বরগুনা সদর, তালতলী ও আমতলী) ঘিরে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জোটবিহীন চরমোনাই পীরের অনুসারীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।
এলাকার বিভিন্ন হাটবাজার, চায়ের দোকান ও জনসমাগমস্থলে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ ও হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীদের ঘিরেই আলোচনা বেশি। ভোটারদের আগ্রহ ও কৌতূহলও এই দুই প্রতীকের দিকেই কেন্দ্রীভূত।
বরগুনা-১ আসনে অতীতে ১৯৯১, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া ১৯৯৬ সালে মো. দেলোয়ার হোসেন এবং ২০২৪ সালে গোলাম সরোয়ার টুকু আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।এবারের নির্বাচনে এই আসনে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের সকলের বাড়ি বরগুনা সদরে। এর মধ্যে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন (দেয়াল ঘড়ি) এবং জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রার্থী জামাল হোসাইন (সাইকেল) প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তাদের প্রচার-প্রচারণা ও জনসমর্থন তুলনামূলকভাবে কম বলে ভোটাররা মনে করছেন।
অন্যদিকে মাঠে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং জোটবিহীন চরমোনাই পীরের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী কেওড়াবুনিয়া দরবার শরীফের পীর আলহাজ হজরত মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহর মধ্যে।বিশাল পায়রা নদীর পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত তালতলী ও আমতলী উপজেলায় এই দুই প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণা চোখে পড়ার মতো। সাধারণ ভোটারদের মন জয় করতে যিনি বেশি সক্ষম হবেন, বিজয়ের পাল্লা তার দিকেই ঝুঁকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে পুরো এলাকায় ধানের শীষ ও হাতপাখা—এই দুই প্রতীকের গুঞ্জন প্রায় সমানভাবে শোনা যাচ্ছে। সামান্য ব্যবধানে জয়-পরাজয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না ভোটাররা।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সরগরম হয়ে উঠছে পুরো এলাকা। চায়ের দোকান, হাটবাজার ও পথচারী আড্ডায় চলছে জোর আলোচনা-সমালোচনা। কেউ হিসাব কষছেন উন্নয়নের, কেউ আবার দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলবাজিমুক্ত সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কথা বলছেন।অনেকে মনে করছেন, সরকারি দলের এমপি থাকলে এলাকায় উন্নয়ন বেশি হয়। আবার অনেক ভোটারের মতে, যিনি সৎ, যোগ্য এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে সক্ষম হবেন—তাকেই ভোট দিয়ে জয়ী করবেন তারা।

