মাহফুজুল হক পিয়াস, ইবি প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসেও আলোচনা বাড়ছে। চা-স্টল, ক্লাসরুম ও আবাসিক হল—বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচন, অংশগ্রহণ, গ্রহণযোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে মতবিনিময় করছেন শিক্ষার্থীরা।
জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী এ নির্বাচনকে ঘিরে তরুণ ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ ও প্রত্যাশার পাশাপাশি কিছু উদ্বেগও রয়েছে। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রত্যাশা ও আশঙ্কার বিষয়গুলো জানা গেছে।
ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী তাজমিন রহমান বলেন, আমি এমন একটি নির্বাচন চাই, যেখানে ভোট হবে স্বাধীন মত প্রকাশের মাধ্যম। মানুষ ভয় নয়, দায়িত্ববোধ থেকে ভোটকেন্দ্রে যাবে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিভাজনের বদলে গণতান্ত্রিক বাস্তবতা মেনে নেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে উঠুক।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী খন্দকার আবু সায়িম বলেন,অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলে গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে। তবে সহিংসতা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও ভোটার আস্থাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি।”
ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী সারোয়ার হোসেন সাকিব বলেন, জাতীয় নির্বাচন রাষ্ট্র ও জনগণের আস্থার বড় পরীক্ষা। আমি চাই প্রতিযোগিতামূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক। অতীতের কিছু অভিজ্ঞতার কারণে নিরপেক্ষতা ও অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, যা কাটিয়ে ওঠা প্রয়োজন।
ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী জয়নব ফেরদৌস জিনিয়া বলেন, আমি আশা করি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সবাই ভোট দিতে পারবে। তবে কেন্দ্র দখল বা সহিংসতার আশঙ্কা যেন না থাকে—সেজন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দরকার।
ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী জুনাইদুল মোস্তফা বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিফলন হওয়া উচিত। জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচনের পরও জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা জরুরি।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশা যেমন উঠে এসেছে, তেমনি নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন অনেকে।

