শবে বরাত মুসলমানদের কাছে রহমত ও ক্ষমা প্রার্থনার একটি বিশেষ রাত হিসেবে বিবেচিত। অনেকেই বিশ্বাস করেন, এ রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের গুনাহ মাফ করেন এবং আগামী সময়ের কল্যাণ নির্ধারণ করেন। কৃতজ্ঞতা ও আনন্দ প্রকাশের অংশ হিসেবে ঘরে ঘরে বিভিন্ন মিষ্টান্ন, বিশেষ করে হালুয়া তৈরির রেওয়াজ রয়েছে। হাদিসের বর্ণনায় এসেছে—শিরককারী ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া এ রাতে বহু মানুষ ক্ষমা লাভ করে।
ইবাদতের পাশাপাশি শবে বরাত উপলক্ষে হালুয়া–রুটি খাওয়ার সংস্কৃতি বহু পরিবারে প্রচলিত। চলুন দেখে নেওয়া যাক কয়েক ধরনের জনপ্রিয় হালুয়ার সহজ রেসিপি—
—
বুটের ডালের হালুয়া
উপকরণ:
বুটের ডাল ৫০০ গ্রাম, চিনি ২০০ গ্রাম, এলাচ ও দারুচিনি ২–৩টি করে, ঘি ১ কাপ, তেজপাতা ২টি, সামান্য রং, পেস্তাবাদাম কুচি।
প্রস্তুত প্রণালি:
ডাল ধুয়ে বেশি পানিতে সেদ্ধ করে নরম হলে বেটে নিন। কড়াইয়ে ঘি গরম করে ডাল বাটা, চিনি, মসলা ও তেজপাতা দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে কিছু সময় রেখে দিন। পরে আবার চুলায় দিয়ে নেড়েচেড়ে ঘন করুন। মিশ্রণ কড়াই ছাড়তে শুরু করলে নামিয়ে পছন্দমতো আকারে গড়ে নিন।
সুজির হালুয়া
উপকরণ:
সুজি ২ কাপ, চিনি ২ কাপ, এলাচ, দারুচিনি, তেজপাতা, তেল–ঘি মিশ্রণ ১ কাপ, বাদাম ও কিসমিস, সামান্য খাবার রং, গরম পানি।
প্রস্তুত প্রণালি:
তেল–ঘিতে সুজি লালচে করে ভেজে নিন। এরপর মসলা ও চিনি দিয়ে মিশিয়ে গরম পানি দিন। ঘন হওয়া পর্যন্ত নাড়তে থাকুন। অর্ধেক অংশ আলাদা করে রং মেশান। থালায় প্রথমে সাদা অংশ, তার ওপর রঙিন অংশ বিছিয়ে ঠাণ্ডা হলে টুকরা করে পরিবেশন করুন।
গাজরের হালুয়া
উপকরণ:
কুচানো গাজর দেড় কেজি, দুধ ২ লিটার, চিনি ২ কাপ, এলাচ–দারুচিনি, কাজুবাদাম, ঘি ৩–৪ টেবিল চামচ।
প্রস্তুত প্রণালি:
দুধ কিছুটা জ্বাল দিয়ে ঘন করে নিন। এতে গাজর দিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করুন। নরম হলে চিনি ও মসলা দিন। দুধ শুকিয়ে এলে ঘি মিশিয়ে নেড়ে নামিয়ে বাদাম ছড়িয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।
বাদামের হালুয়া
উপকরণ:
কাজু বাদাম ২ কাপ, ছানা ২ কাপ, চিনি ২ কাপ, এলাচ গুঁড়া, ঘি আধা কাপ, ময়দা ১ টেবিল চামচ, কিসমিস।
প্রস্তুত প্রণালি:
বাদাম হালকা ভেজে কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে ব্লেন্ড করুন। কড়াইয়ে ঘি দিয়ে বাদাম বাটা ও ছানা কষান। চিনি, ময়দা ও এলাচ গুঁড়া মিশিয়ে নেড়েচেড়ে ঘন করুন। মিশ্রণ কড়াই ছাড়লে ঘি মাখানো পাত্রে ঢেলে ঠাণ্ডা করে কেটে নিন। ওপর থেকে বাদাম–কিসমিস ছড়িয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

