বিতর্কিত এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নাম পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বাহিনীটির নতুন নাম হবে ‘স্পেশাল ইন্টারভেশন ফোর্স’ (এসআইএফ)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, কেবল নামই নয়, বাহিনীটির পোশাকেও আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বর্তমানে নতুন পোশাক তৈরির কাজ চলছে। বাহিনীর কাঠামো ও বিগত দিনের কার্যক্রম বিস্তারিত পর্যালোচনার পর এই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে বিএনপি সরকারের আমলে র্যাব গঠিত হয়, যার প্রাথমিক নাম ছিল ‘র্যাট’। তবে দীর্ঘ দুই দশকে বাহিনীটির বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অসংখ্য অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে:
২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র র্যাব এবং এর সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তর র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে। বিএনপি ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়ে আসছে। বিএনপি নেতা হাফিজ উদ্দিন আহমদ সম্প্রতি একে ‘গ্যাংগ্রিন’ এর সঙ্গে তুলনা করে বিলুপ্তির পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
সরকার গঠিত পুলিশ সংস্কার কমিশন তাদের সুপারিশে জানিয়েছিল, পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে র্যাবের প্রয়োজনীয়তা পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি। সেই সুপারিশের আলোকেই সরকার বাহিনীটিকে বিলুপ্ত না করে ঢেলে সাজানোর পথ বেছে নিয়েছে।

