সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার প্রতিনিধি):
মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী প্রিন্সিপাল মাওলানা আহমদ বিলাল তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় মৌলভীবাজার শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি ইশতেহার তুলে ধরেন।
ইশতেহার ঘোষণাকালে আহমদ বিলাল বলেন, মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর তাঁর গর্ব ও অহংকার। এই জনপদকে পরিকল্পিত,উন্নত, পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ এলাকায় রূপান্তরের পাশাপাশি শহরকে যানজটমুক্ত,পরিচ্ছন্ন ও ডিজিটাল নগরীতে পরিণত করাই তাঁর লক্ষ্য।
ইশতেহারে তিনি নাগরিক নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন। বয়স্ক ও শিশু ভাতা নিশ্চিত করা,ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের পুনর্বাসন জোরদার করার প্রতিশ্রুতিও দেন।
শিক্ষা খাতে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ,রাজনগর ডিগ্রি কলেজ,মৌলভীবাজার টাউন কামিল মাদরাসা ও রাজনগর দারুসসুন্নাহ ফাজিল মাদরাসার অবকাঠামো উন্নয়ন,শিক্ষক সংকট নিরসন এবং অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে আসন বৃদ্ধি করার কথা বলেন তিনি। উলামায়ে কেরামের পরামর্শে কওমি মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ারও ঘোষণা দেন।
মৌলভীবাজার সদরে একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অথবা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি সংসদে উত্থাপন ও বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন তিনি। পাশাপাশি প্রবাসে গমনেচ্ছুক যুবকদের জন্য আধুনিক ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন।
স্বাস্থ্য খাতে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালকে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উন্নীত করার প্রক্রিয়া শুরু,গরিব রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত আইসিইউ বেড ও স্বল্পমূল্যে ডায়ালাইসিস সেবা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয়। সদর ও রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নত ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানের অঙ্গীকারও করেন তিনি।
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা, তরুণদের জন্য ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানান তিনি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমাল রক্ষা ও নারীদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ আইন প্রয়োগের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।
শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে মাস্টার ড্রেনেজ সিস্টেম বাস্তবায়ন,পৌরসেবাকে ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের আওতায় এনে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা এবং রাজনগর উপজেলাকে পৌরসভায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন তিনি।
যানজট নিরসনে কুসুমবাগ,চৌমুহনা ও বেড়ীরপার মোড়ে সমীক্ষা সাপেক্ষে ফ্লাইওভার বা বিকল্প বাইপাস সড়ক নির্মাণের কথা বলা হয়। শহরের বাইরে আধুনিক বাস ও ট্রাক টার্মিনাল,সিএনজি ও ইজি-বাইকের জন্য নির্দিষ্ট পার্কিং জোন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
কুশিয়ারা নদীর ওপর রাজনগর-বালাগঞ্জ ব্রিজ,ধলাই নদীর ওপর কামারচাক ইউনিয়নে একটি সেতু এবং মনু নদীর ওপর নতুন একটি সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত।
কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সদর উপজেলায় দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী,শেরপুর ইকোনমিক জোন দ্রুত কার্যকর করা এবং একটি আইটি বা হাই-টেক পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। রাজনগরে বরফকল স্থাপন এবং কৃষি,মৎস্য ও প্রাণিসম্পদভিত্তিক শিল্প উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
হাওর ও নদীতীরবর্তী মানুষের জানমাল রক্ষায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ,জলমহাল প্রকৃত মৎস্যজীবীদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া এবং নারীদের জন্য ঘরে ঘরে ক্ষুদ্র কুটির শিল্প গড়ে তোলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
চা শ্রমিকদের উন্নয়নে বাগান এলাকায় মানসম্মত শিক্ষা,শ্রমিক সন্তানদের জন্য উচ্চশিক্ষায় বিশেষ বৃত্তি,চিকিৎসা সুবিধা ও সম্মানী ভাতা নিশ্চিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
পর্যটন খাতে মৌলভীবাজারের দর্শনীয় স্থানগুলো পরিবেশবান্ধবভাবে উন্নয়ন, বর্ষিজোড়া ইকোপার্ককে বিশ্বমানের করা, পাঁচগাঁও দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে রাজনগরের পর্যটন বিকাশ,পাঁচগাঁও গণকবর সংরক্ষণ ও জাদুঘর নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি হাওরাঞ্চলে পর্যটন কেন্দ্র এবং মৌলভীবাজার ও রাজনগরে দুটি শিশু পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন।
ইশতেহারের শেষাংশে আহমদ বিলাল বলেন, তিনি মৌলভীবাজারের সন্তান এবং এই মাটির ঋণ শোধ করাই তাঁর দায়িত্ব। তাঁর লক্ষ্য ক্ষমতা নয়,সেবা। ভোট ও সমর্থন পেলে মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগরকে একটি আধুনিক,স্বনির্ভর ও নিরাপদ নগরীতে রূপান্তর করবেন-এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

