মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি ;-
দুপুরের রোদে উপশহর কলেজ মাঠ তখন মানুষের ঢলে উত্তাল। স্লোগানের শব্দ, পতাকার ঢেউ, আর অপেক্ষার উত্তেজনার মাঝেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান এক জায়গায় এসে কণ্ঠ ভারী করলেন। কথা ঘুরে গেল এক রাজনৈতিক দলের দিকে—জামায়াতে ইসলামী।
আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান বলেন, এই দেশকে যারা নারীদের অগ্রযাত্রা থেকে পিছিয়ে দিতে চায়, তারা আজও একই মানসিকতায় আটকে আছে। জামায়াতের দিকে আঙুল তুলে তারেক রহমান বলেন, “এরা চায় নারীরা ঘরের ভেতর বন্দি থাকুক।” শুধু তাই নয়, তিনি অভিযোগ করেন—দলটির শীর্ষ নেতা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মজীবী মা-বোনদের নিয়ে এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা কেবল আপত্তিকরই নয়, রীতিমতো লজ্জাজনক।
তারেক রহমানের কণ্ঠে তখন ক্ষোভ। তিনি বলেন, যেসব নারীরা সংসারের পাশাপাশি কলকারখানা, অফিস কিংবা মাঠে কাজ করে দেশের অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, তাদের নিয়েই কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছে জামায়াতের নেতারা। অথচ এখন সেই দলই আবার নারী কর্মীদের গ্রামে গ্রামে পাঠাচ্ছে—মা-বোনদের কাছ থেকে এনআইডি নম্বরের পাশাপাশি বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে।
তারেক রহমানের ভাষায়, “হয়তো কাউকে দু-এক টাকা বিকাশ করেও দেবে। কিন্তু এরপর আর তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।” তিনি বলেন, যারা সকাল-বিকাল শুধু মিথ্যা বলে, যাদের ইতিহাস বিশ্বাসঘাতকতায় ভরা, তাদের ওপর আস্থা রাখার কোনো কারণ নেই।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন ১৯৭১ সালের কথা—যে সময় এই দেশের লাখো মানুষ শহীদ হয়েছেন, মা-বোনেরা সম্ভ্রম হারিয়েছেন। তারমতে, সেই ইতিহাসের দায় এড়াতে পারে না জামায়াত। “তাদের কারণে যে রক্ত ঝরেছে, সে ক্ষত আজও শুকায়নি,”—বলতে গিয়ে মাঠজুড়ে নেমে আসে নিস্তব্ধতা।
খুলনার খালিশপুর শিল্পাঞ্চলের জনসভাতেও একই সুরে কথা বলেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, একটি রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিয়েছে—তারা নারী নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না। এমনকি কর্মজীবী নারীদের নিয়ে এমন শব্দ ব্যবহার করেছে, যা উচ্চারণ করতেও লজ্জা লাগে। পরে সমালোচনার মুখে ‘আইডি হ্যাক’ হওয়ার অজুহাত দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে সেটি মিথ্যাচার ছাড়া কিছুই নয়।
তারেক রহমান বলেন, যারা নারীদের অসম্মান করে, যারা মিথ্যার আশ্রয় নেয়, তারা কখনো দেশপ্রেমিক হতে পারে না। তিনি মনে করিয়ে দেন—বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ নারী। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে পিছনে ফেলে কোনো দেশ এগোতে পারে না।
তিনি তুলে ধরেন ইসলামের ইতিহাসও। বলেন, “যারা ইসলাম কায়েমের কথা বলে, তারা ভুলে যায়—নবী করিম (সা.)-এর সহধর্মিণী বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী।” তাই নারীদের কর্মজীবন নিয়ে কটূক্তির অধিকার কারও নেই।
তারেক রহমানের বক্তব্যে বারবার ফিরে আসে একটি কথা—দেশ গড়তে হলে নারীদের সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করতেই হবে। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে নারীদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যাতে তারা কারও মুখাপেক্ষী হয়ে না থাকে।#
প্রেরক:-

