জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেশে মোট ৬৬৩টি মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে ৪৫৩টি হত্যা মামলা। এই তথ্য উঠে এসেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কর্তৃক প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে।
সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শিরোনামের প্রতিবেদনের প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই তথ্য উন্মোচিত হয়। প্রতিবেদনে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর অগ্রগতি, সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়েছে।
টিআইবির তথ্যানুযায়ী, দেশে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে যুক্ত ১,৭৮৫টি মামলার মধ্যে ৬৬৩টিতে শেখ হাসিনার নাম আসামি হিসেবে রয়েছে। মোট হত্যা মামলার সংখ্যা ৮৩৭, যার ৪৫৩টি হত্যার সঙ্গে হাসিনার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ইতিমধ্যেই মানবতাবিরোধী একটি মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায় হয়েছে, এবং তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
টিআইবি জানায়, মামলার অগ্রগতি ধীর। এ পর্যন্ত ১০৬টি মামলায় অভিযোগপত্র জমা পড়েছে, যার মধ্যে হত্যা মামলা ৩১টি। এসব মামলায় ১২৮ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তাও রয়েছেন। একই সঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে ৭৬১টি মামলা রয়েছে, যেখানে ১,১৬৮ জন পুলিশ সদস্য আসামি, অথচ গ্রেপ্তার মাত্র ৬১ জন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৪৫০টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে মামলা হয়েছে ৪৫টি। এসব মামলায় ২০৯ জনকে আসামি করা হয়েছে, ৮৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। বর্তমানে ১২টি মামলা বিচারাধীন।
টিআইবির প্রতিবেদনে অভিযোগপত্র দায়ের ও গ্রেপ্তারের ধীরগতি, বিচারিক কার্যক্রমে রাজনৈতিক প্রভাব, চাঁদাবাজি ও প্রতিশোধমূলক মামলা দায়েরের মতো বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, মামলার ভিত্তি দুর্বল বা পদ্ধতিগত জটিলতার কারণে প্রকৃত অপরাধীরা দায় এড়িয়ে যেতে পারে।
প্রতিবেদনের প্রকাশ অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, সিনিয়র রিসার্চ ফেলো শাহজাদা এম আকরাম, মো. জুলকারনাইন, রিসার্চ ফেলো ফারহানা রহমান, রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মোস্তফা কামাল ও মোহাইমেনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

