নুরী আক্তার মুন, ডেস্ক রিপোর্ট:
সুন্দর ও সুস্থ দাঁত শুধু হাসির সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং সামগ্রিক মুখগহ্বরের স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ অভ্যাস অজান্তেই দাঁতের বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দাঁতের সমস্যা সাধারণত ধীরে ধীরে তৈরি হয়, ফলে শুরুতে বিষয়টি অনেকেই বুঝতে পারেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিনের কয়েকটি ভুল অভ্যাস দাঁতের এনামেল ক্ষয়, সেনসিটিভিটি ও দুর্বলতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
১. জোরে জোরে দাঁত ব্রাশ করা
অনেকেই মনে করেন জোরে দাঁত মাজলে বেশি পরিষ্কার হয়। তবে দন্তচিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত চাপ দিয়ে ব্রাশ করলে দাঁতের ওপরের সুরক্ষাস্তর বা এনামেল ক্ষয়ে যেতে পারে। এতে দাঁত সংবেদনশীল হয়ে ওঠে এবং মাড়ির ক্ষতিও হতে পারে। নরম ব্রাশ ও হালকা চাপে দাঁত মাজার পরামর্শ দেওয়া হয়।
২. অ্যাসিডিক ও মিষ্টি খাবার-পানীয় বেশি খাওয়া
কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিংক, চা, কফি, ফলের রস ও অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার দাঁতের এনামেলের ক্ষতি করে। নিয়মিত এসব খাবার গ্রহণ করলে দাঁতের সুরক্ষাস্তর দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এ ধরনের খাবার বা পানীয় গ্রহণের পর মুখ কুলি করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
৩. পর্যাপ্ত পানি না পান করা
শরীরে পানির ঘাটতি হলে মুখে লালা বা থুতু কম তৈরি হয়। অথচ লালা মুখের অ্যাসিড নিরপেক্ষ রাখতে ও দাঁতকে সুরক্ষা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পর্যাপ্ত পানি না খেলে দাঁত ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে।
৪. ঘরোয়া উপায়ে দাঁত সাদা করার চেষ্টা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেবুর রস, বেকিং সোডা বা অ্যাকটিভেটেড চারকোল দিয়ে দাঁত সাদা করার বিভিন্ন পদ্ধতি জনপ্রিয়। তবে এসব উপাদান ব্যবহারে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হতে পারে এবং দাঁত অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করছেন দন্তচিকিৎসকরা।
৫. কেবল সকালে দাঁত মাজাকেই যথেষ্ট মনে করা
অনেকে শুধু সকালে দাঁত মাজেন, রাতে ব্রাশ করা এড়িয়ে যান। চিকিৎসকদের মতে, রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত মাজা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সারাদিনের খাবারের অবশিষ্টাংশ রাতে দাঁতে জমে ক্ষতি করতে পারে। দিনে অন্তত দুইবার সঠিক পদ্ধতিতে দাঁত ব্রাশ করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত সঠিক যত্ন ও সচেতনতা থাকলে দাঁতের অধিকাংশ সমস্যাই সহজে প্রতিরোধ করা সম্ভব। বছরে অন্তত একবার দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।


