মোঃ শরিফ বিল্লাহ , ডোমার উপজেলা প্রতিনিধি :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর–কিশোরগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির এক স্থানীয় নেতার বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর প্রসঙ্গ টেনে জাতীয় পার্টিকে সংসদে পাঠানোর আহ্বান জানানো ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
বড়ভিটা ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক হিন্দু সম্প্রদায় অধ্যুষিত একটি এলাকায় গণসংযোগকালে ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হলে জাতীয় পার্টিকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তার দাবি অনুযায়ী, জাতীয় পার্টি সংসদে না গেলে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা তো দূরের কথা, জীবনের পরিসমাপ্তির পরও তার মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হবে না।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচনে জাতীয় পার্টি এককভাবে বিপুল সংখ্যক আসনে প্রার্থী দিয়েছে এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সংসদে প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল, যেখানে যেখানে লাঙ্গল প্রতীকে প্রার্থী রয়েছে, সেখানেই বিজয় নিশ্চিত করা হবে এবং সরকার গঠনের সুযোগ এলে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
ভোটের দিন কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে দলীয় কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তা মোকাবিলা করা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এ সময় তার সঙ্গে জাতীয় পার্টির স্থানীয় এক সাবেক নেতা উপস্থিত ছিলেন।
এই বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেক ব্যবহারকারী জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী লীগের সহযোগী আখ্যা দিয়ে দলটির বিরুদ্ধে বয়কটের ডাক দেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুন অর রশিদ মামুন এক ফেসবুক পোস্টে জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে কটাক্ষ করেন এবং দলটিকে আত্মনির্ভরশীল রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ব্যর্থ বলে উল্লেখ করেন।
অন্যান্য নেটিজেনদের মন্তব্যেও জাতীয় পার্টির প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ পায়। কেউ কেউ দলটিকে ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করেন, আবার কেউ রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করার দাবিও তোলেন।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলার একটি আন্দোলনের স্থানীয় সমন্বয়ক মোতালেব হোসেন বলেন, প্রকাশ্যে ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনর্বাসনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। তার মতে, এ ধরনের রাজনৈতিক শক্তিকে জনগণের পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান করা উচিত।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এ ধরনের বক্তব্য নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বিভাজন ও সংঘাতকে আরও গভীর করতে পারে।

