প্রেস বিজ্ঞপ্তি
১ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ভাসানী জনশক্তি পার্টি ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে মহাখালী কমিউনিটি সেন্টার চত্বরে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকসভা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এড. রুহুল কবি রিজভী।প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভাসানী জনশক্তি পার্টি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী বেগম খালেদা জিয়া আজীবন ফ্যাসিবাদ এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে হিমালয়ের মত দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি নিজে এবং পরিবারের সুখ শান্তি চাইলে বিলাসী জীবন যাপন করতে পারতেন, শেখ হাসিনার মত পালিয়ে গিয়ে বিদেশে রাজকীয় জীবন যাপন করতে পারতেন।
তিনি সারা জীবন কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের পক্ষে কথা বলেছে।তিনি ৩বার বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন কোন প্রকার দুর্নীতি তাকে স্পর্শ করে নাই। মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে বছরের পর বছর জেলে রেখে বিষক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন বেগম খালেদা জিয়া আপোষীর নেত্রী ছিলেন তার সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনের বাংলাদেশ লক্ষ্যে পৌছবে। আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় এনে গণতন্ত্রকে রক্ষা করবেন।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মা ছিলেন, তিনি আজীবন অপসহীন ভাবে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই সংগ্রাম করেছেন, জেল খেটেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন তবুও আপোষ করেননি। স্বাধীনতার ৫৪বছর পরেও আমরা কাঙ্খিত বাংলাদেশ গড়তে পারিনি। জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনে আমরা যে সংস্কার প্রস্তাব তৈরী এবং স্বাক্ষর করেছি, আগামী নির্বাচনে গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত করতেই হবে। গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে, নতুনভাবে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সুযোগ বন্ধ হবে।
স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে হলে।মাওলানা ভাসানীর প্রতীক ছিল ধানের শীষ,শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতীক ধানের শীষ,বেগম খালেদা জিয়ার প্রতীক ধানের শীষ,তারেক রহমানের প্রতীক ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে। ভাসানী জনশক্তি পার্টির মহাসচিব ডক্টর আবু ইউসুফ সেলিম তার বক্তব্যে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বিএনপি’র প্রয়োজনে, দেশের প্রয়োজনে ১৯৮১ সালে রাজনীতিতে আসার পর থেকে আমৃত্যু বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই সংগ্রামে আপোষহীন ভূমিকা পালন করেছেন।তার অবদান বাংলাদেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে স্মরণ করবে।
তিনি বলেন একটি গোষ্ঠী প্রচার করছে গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ মুছে যাবে,এই কথাটি সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা ভিত্তিহীন এবং অপপ্রচার।তিনি বলেন জুলাই গণঅভ্যুর্থানের চেতনার বাংলাদেশ গড়তে জুলাই সনদ তৈরি এবং স্বাক্ষর করা হয়েছে। জুলাই সনদের পক্ষে গণভোটে হা জয়যুক্ত করতেই হবে। জুলাই সনদে হ্যাঁ জয়যুক্ত না হলে আবার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ তৈরি হবে।
অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলীর সভাপত্বিতে আরও বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য বাবুল বিশ্বাস, জামিল আহমেদ, ভাসানী জনশক্তি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, প্রচার সম্পাদক মেহেদী হাসান তপন, ভাসানী নারী মুক্তি পার্টির সদস্য সচিব শাহানা বেগম, বংশাল থানা সভাপতি ইমরুল হাসান ওয়াসিম, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ভাসানী জনশক্তি পার্টির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আব্দুল হক।

