ক্রাইম রিপোর্টার:
স্বামী হারানোর পর জীবনের সব বোঝা একা কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন রেবেকা বেগম ও রোসেনা বেগম। মাথা গোঁজার ছোট্ট ঘরটাই ছিল তাদের বেঁচে থাকার শেষ ভরসা। কিন্তু সেই শেষ আশ্রয়টুকুও রক্ষা পেল না। রংপুর সদর উপজেলার সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নের কেশবপুর মাদ্রাসা পাড়ায় আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় দুই অসহায় বিধবা নারীর বসতঘর ভেঙে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটে পহেলা ফেব্রুয়ারি রবিবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে। অভিযোগ অনুযায়ী, একই গ্রামের হোছেন আলীর পুত্র মজিবর রহমানের নির্দেশে তার ছেলে আনোয়ার হোসেন (৪৫), আতোয়ার মিয়া (৪০), রহমত আলী (৩০), জামাতা আনিছুল ইসলামসহ একদল ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী কেশবপুর আশরাফুল উলুম মাদ্রাসার বর্তমান কমিটির কয়েকজনের মদদে ওই দুই নারীর ঘরবাড়িতে হামলা চালায়।
প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, মুহূর্তের মধ্যেই শান্ত বসতভিটা পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে। টিনের চাল ভেঙে ফেলা হয়, দেয়াল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘরের ভেতরের আসবাব, কাপড়চোপড়, হাঁড়ি-পাতিল রাস্তায় ছুড়ে ফেলা হয়। লুট করে নেওয়া হয় মূল্যবান জিনিসপত্র। আতঙ্কে ছুটোছুটি করতে থাকেন বৃদ্ধা দুই নারী।
চোখের সামনে ঘর ভাঙতে ভাঙতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রেবেকা বেগম। কাঁপা গলায় তিনি বলেন, “এই ঘরটা বানাতে স্বামী জীবনের শেষ সম্বলটা খরচ করেছিল। আজ তার স্মৃতিটুকুও ভেঙে দিলো। এখন আমি কোথায় যাব?
রোসেনা বেগমের কণ্ঠেও অসহায়ত্ব, “আমরা আইনের আশায় আদালতে গেছি। মামলা চলমান। কিন্তু রায় হওয়ার আগেই শক্তির জোরে আমাদের সব শেষ করে দিলো।”
ভুক্তভোগীরা জানান, জমি ও বসতঘর সংক্রান্ত বিষয়ে রংপুরের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জজ আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। মামলাগুলোর নম্বর—এমআর ৪৬১/২৪, ৪৯৮/২৪ ও এনজিআর ৯৫/২২। এসব মামলার কোনো রায় ঘোষণার আগেই প্রতিপক্ষ অবৈধভাবে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তাদের দাবি, এই ভাঙচুর ও লুটপাটে প্রায় ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
আইনের আশ্রয় নিতে রংপুর সদর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এলাকাবাসী ও মানবাধিকার সচেতনরা বলছেন, সমাজের সবচেয়ে দুর্বল মানুষ—বিধবা নারীদের ওপর এ ধরনের নির্মমতা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, এটি মানবতার ওপর সরাসরি আঘাত। তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

