শাহজাহান আলী মনন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে নীলফামারী বড়মাঠের চাঁদাবাজ চক্রের হোতা ভাইরাল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মো. মতলুবর রহমান।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জানুয়ারি নীলফামারী সদর থানাধীন পৌরসভা এলাকার বড় মাঠের পূর্ব পাশে অভিযোগকারী তাপস রায় (২২) তার স্ত্রী আশা রায় (১৯) এর সাথে বসে ছিলেন।
এ সময় গ্রেপ্তারকৃত মো. মামুন শেখ ওরফে জঙ্গী মামুন (২৫) এর নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক তাদের ঘিরে ধরে অবৈধভাবে আটক করে হেনস্তা করেন এবং ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাপস রায়কে মারধর করা হয় এবং ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রশাসন ও সুশীল সমাজ ব্যাপক উদ্বেগ প্রকাশ করে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নীলফামারী পুলিশ সুপার জেলা গোয়েন্দা শাখা ও থানা পুলিশকে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন।
এর প্রেক্ষিতে জেলা গোয়েন্দা শাখার তত্ত্বাবধানে এসআই (নি.) রাসেল শেখের নেতৃত্বে অভিযানিক দল তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে।এ অভিযানের ধারাবাহিকতায় ৩০ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে নীলফামারী সদর থানাধীন চড়াইখোলা বটতলী বাজারের পশ্চিম পাশে কবরস্থান এলাকা থেকে প্রধান আসামি মো. মামুন শেখ ওরফে ভাইরাল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে, তার চক্র দীর্ঘদিন ধরে নীলফামারী বড় মাঠ এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।
এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. মতলুবর রহমান জানান, “এই চাঁদাবাজ চক্র সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাঁদা আদায় করত। আমরা প্রযুক্তির সহায়তায় অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করছি এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে। নীলফামারী জেলায় এ ধরনের অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।”
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে নীলফামারী সদর থানায় সাইবার সুরক্ষা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

