হাবিব আহমেদ
শুধু যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়নই নয়, রাজশাহীতে খেলাধুলায় সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব রেখেছেন সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও এমপি মিজানুর রহমান মিনু। তিনি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর যুবকদের খেলাধুলার মধ্যে নিয়ে আসার জন্য ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নেন। শুধু যুবকদের জন্যই নয়, নারীদেরও মেধাবিকাশ, প্রশিক্ষন ও খেলাধুলার জন্য বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ করেন। নির্মাণ করেন সুইমিংপুল মিজানুর রহমান মিনুই প্রথম রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম করে সেখানে জাতীয় মানের খেলাধুলার ব্যবস্থা কলেন। যা রাজশাহীর ইতিহাসে বিরল।
মিজানুর রহমান মিনু এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর একের পর উন্নয়ন করে রাজশাহীবাসিকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর খেলাধুলায় মিজানুর রহমান মিনু যে অবদান রেখেছেন তা রাজশাহীর আর কোনো রাজনৈতিক নেতার পক্ষে সম্ভব হয়নি। মিজানুর রহমান মিনুর এসব উন্নয়ন ছিল যেমন টেকসই, তেমনি যুগপোযোগি। যার কারণে মিজানুর রহমান মিনু শিক্ষানুরাগি ছাড়াও ক্রীড়াপ্রেমি হিসাবে পরিচিত ছিলেন।
নগরবাসীর ভাষ্যমতে, এক সময় রাজশাহী মহানগরীতে মাদকাশক্তের হার বেড়ে গিয়েছিল। যুবকরা খেলাধুলা ও পড়ালেখা বাদ দিকে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত খুব কাছাকাছি হওয়ায় রাজশাহীতে মাদকের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পায়। বিষয়টি উপলোদ্ধি করেন তৎকালীন মেযর ও সদর আসনের এমপি মিজানুর রহমান মিনু। তিনি ওই সময় রাজশাহীর সুশিল, শিক্ষক, সচেতন মহলের সাথে বিষয়গুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করেন। সমাধান এসে দাঁড়ায় যুবকদের খেলাধুলার ব্যবস্থা করা ছাড়া মাদকের ভয়াবহতা থেকে তাদের দুরে রাখা সম্ভব না। পরে মিজানুর রহমান মিনু ২০০৪ সালে রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম স্থাপন করেন। যার ধারণ ক্ষমতা ছিল ধারণক্ষমতা ১৫,০০০ হাজার। পরে ৩৫,০০০হাজার করা হয়। উত্তরাঞ্চলে এটি সর্ববৃহৎ স্টেডিয়াম।
সেই সময় আধুনিক মানের স্টেডিয়াম বলতে ঢাকার পর রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম ছিল অন্যতম। বিভাগীয় এই স্টেডিয়াম উদ্বোধনের পর ২০০৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের তিনটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আর এ খেলার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন মিজানুর রহমান মিনু। কিন্তু গত ১৬ বছর এই স্টেডিয়ামের সুন্দর্য নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। তবে উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগলেও বিভাগীয় স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করা হয়েছিল। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামের নাম করণ করা হয় শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়াম।
এক সময় রাজশাহীর নারীরা অনেকটাই পিছিয়ে ছিল। নারীদের উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে রাজশাহী বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ করেন মিজানুর রহমান মিনু। মূলত নারীদের খেলাধুলা, মেধাবিকাশ ও প্রশিক্ষণের জন্য রাজশাহী বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়। রাজশাহীর মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স ছিল রাজধানীর ঢাকার পরের স্থানে। রাজশাহী বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সাথে নির্মাণ করা হয় সুইমিংপুল।
রাজশাহী বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে ক্রিকেট, সাঁতারসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন ও অনুশীলন করা হয়। যা নারীদের ক্রীড়া বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মূলত মিজানুর রহমান মিনুর উদ্যোগে ২০০৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এছাড়াও ১৯৯৫ সালে জেলা সুইমিংপুলের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেই সময় ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজশাহী বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে ও সুইমিংপুল স্থাপন করেছিলেন মিজানুর রহমান মিনু। যদিও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এসব খেলাধুলার স্টেডিয়াম নষ্ট করে দিয়েছে। দলীয় প্রভাবে এটি এখন ধংসের দারপ্রাপ্তে।
রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম, রাজশাহী বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে ও সুইমিংপুলের রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বলছেন, ১৬ বছর রাজশাহীতে আন্তজার্তিক মানের কোনো খেলাধুলা হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে মিজানুর রহমান মিনু নির্বাচিত হলে আবারো জাতীয় মানের খেলাধুলা হবে রাজশাহীতে। এক সময় তিনি জাতীয় মানের খেলাধুলার ব্যবস্থা করেছিলেন। আবারো হবে এমন প্রত্যাশা রাজশাহীবাসীর।
এদিকে, খেলাধুলার ক্ষেত্রে শুধু রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম, রাজশাহী বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে ও সুইমিংপুল নয়, মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহীর প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার জন্য মাঠ তৈরি করেছিলেন। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে তিনি নিজ উদ্যোগে মাঠ তৈরি করেন। রাজশাহীর যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খেলার জন্য মাঠ রয়েছে, এই মাঠগুলোর তৈরির পেছনের কারিগর ছিলেন মিজানুর রহমান মিনু। শিক্ষকরা বলছেন, মিজানুর রহমান মিনু শুধু শিক্ষানুরাগি ছিলেন না, তিনি ছিলেন ক্রীড়াপ্রেমিও। তিনি এবার এমপি নির্বাচিত হলে শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলার মান আবার আগের মত ফিরবে এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

