(বরিশাল) প্রতিনিধি
গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ইং শনিবার সন্ধ্যা সারাদেশে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু করেছে যৌথ বাহিনী।
সম্প্রতি দেশব্যাপী চাঁদাবাজি, নাশকতা, সরকারবিরোধী লিফলেট বিতরণসহ নানা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ও গাজীপুরে ছাত্র-জনতার ওপর দুর্বৃত্তদের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই অভিযান চলমান আছে । সাধারণ মানুষ এ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে। কিন্তুু বাকেরগঞ্জ উপজেলার বেলায় ঘটেছে ভিন্ন ঘটনা। দেশজুড়ে চলমান ডেভিল হান্ট অপারেশনে বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানায় অগ্রগতির ঘাটতি লক্ষনীয়।
এদিকে ৮ ফেব্রুয়ারী অপারেশন ডেভিল হান্ট শুরু হলেও ১৩ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত ১২ টা পর্যন্ত বাকেরগঞ্জ থানায় কোন গ্রেপ্তার ছিল না। এনিয়ে ওইদিন রাতে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস ভাইরাল হলে শুক্রবার দুপুরের দিকে পুলিশ দায়সারা অভিযান চালিয়ে গারুরিয়া ইউনিয়ন থেকে মোঃ রফিকুল ইসলাম নামের একজন ইউপি সদস্য এবং রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া থেকে বাচ্চু হাওলাদার নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে।
অথচ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৬ জনকে হত্যা করা হয় এবং গুরুতর আহত হয় ৩০-৩৫ জন। দ্বিতীয় গণঅভ্যুত্থানে হত্যা ও আহতের ঘটনায় আলোচিত ছিল বরিশাল জেলার এ থানাটি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পুলিশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গারুড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এএসএম জুলফিকার হায়দারকে গ্রেপ্তার করতে তার গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালায়। ওই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক হারুন জোমাদ্দার। আওয়ামীলীগ নেতা জুলফিকারকে পালাতে সে সহযোগিতা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে কলেসকাঠীতে ইউপি সদস্য মিজানকে গ্রেপ্তার না করতে পুলিশকে নিষেধ করেন বিএনপি নেতা শওকত হাওলাদারের পুত্র কামাল হাওলাদার। ইউপি সদস্য মিজানকে গ্রেপ্তার করলে পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করা হবে বলেও তিনি হুমকি দেয়। ফ্যাসিস্টদের দোসরদের গ্রেপ্তার ঠেকাতে এরকম অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত উপজেলা বিএনপির আহবায়ক হারুন অর রশীদ জমাদ্দার বলেন, আমিতো আর পুলিশকে গ্রেফতার করতে নিষেধ করিনি। পুলিশের কাজ পুলিশ করবে আর আমার কাজ আমি করব।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব নাছির হাওলাদার থানা পুলিশের কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সারাদেশে চলমান অপারেশন ডেভিল হান্টে অন্যান্য থানায় গ্রেপ্তার কার্যক্রম চলমান থাকলেও বাকেরগঞ্জ থানায় কোন ডেভিল গ্রেপ্তার নেই বললেই চলে। ফাসিস্টদের দোসরদের গ্রেপ্তার না করতে যদি কোন বিএনপি নেতা পুলিশকে নিষেধ করে তাহলে সেইসব নেতাদের বিষয়ে জেলা ও উপজেলা বিএনপি নেতাদের অভহিত করার জন্য পুলিশের প্রতি তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা বিএনপির নেতারা পুলিশের কোন কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করিনা। তবে পুলিশ যদি অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের গ্রেপ্তার না করে সেটাও দুঃখজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাকেরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ সফিকুল ইসলাম বলেন, অপারেশন ডেভিল হান্টে শুক্র ও শনিবার দুইদিনে ৫জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ৮ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপারেশন ডেভিল হান্টে মোট কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি তথ্য পরে দিবেন বলে জানান। তিনি আরো জানান, কোন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার হলেও তারা ডেভিল হান্টের আওতায় পরবে। একই সাথে চলমান অপারেশন ডেভিল হান্টে পুলিশ ও যৌথ বাহিনী বাকেরগঞ্জে কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি বলেও তিনি জানান।
বরিশাল প্রতিনিধি