আব্দুল্লাহ মুহসিন, পবিপ্রবি প্রতিনিধি :
নির্বাচনী সহিংসতায় জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনায় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রদল কর্তৃক বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
২৮ জানুয়ারি(বুধবার) দিবাগত রাত সাড়ে এগারোটার দিকে ছাত্রশিবির সভাপতি জান্নাতীন নাঈম জীবনের নেতৃত্বে ছাত্রশিবির বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল থেকে মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে। এসময় তাদের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন বিরোধী কিছু স্লোগান দিতে শোনা যায়।
মিছিল চলাকালীন সময়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হল-০২ এর সামনে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জনি মিছিলের অগ্রভাগে থাকা শিবির সভাপতি জীবনকে দাঁড় করিয়ে স্লোগানের কারণ সহ বিভিন্ন ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে থাকেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, “আজকের হত্যাকাণ্ডে বিএনপি জড়িত— এ ব্যাপারটা প্রমাণ হয়েছে কিনা?” এসময় ছাত্রশিবির সভাপতি ও ছাত্রদল সেক্রেটারি পরস্পর বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। সেসময় শিবির সভাপতি জীবন কথা অসমাপ্ত রেখে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হয়ে মুক্তবাংলার সামনে তাদের নেতাকর্মী নিয়ে জড়ো হন।
মুক্তবাংলায় মিছিল পরবর্তী জমায়েতে শিবির সভাপতির বক্তৃতা চলাকালীন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ রাতুল ও সেক্রেটারি জনি তার কর্মীদের নিয়ে উচ্চবাচ্য করতে করতে এগিয়ে আসেন ও শিবির সভাপতি জীবনের পাশে এসে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জিজ্ঞেস করতে থাকেন।
এরপর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উভয়দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বারবার কথা কাটাকাটিসহ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে থাকে। একপর্যায়ে ক্যাম্পাসে উভয়দল সহাবস্থানের ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদল সেখান থেকে তাদের নেতাকর্মী নিয়ে স্থান ত্যাগ করে
এরপর ছাত্রদলের সভাপতি ও সেক্রেটারির নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে সংক্ষিপ্ত মিছিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম গেটের সামনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন শাখা ছাত্রদল সভাপতি, সেক্রেটারি রাতুল ও জনি। এসময় তারা শিবিরের বিভিন্ন স্লোগানের বিরোধীতা করেন। তাছাড়া শিবিরের কাজের সমালোচনাও করেন তারা।
উল্লেখ্য যে, ২৮ জানুয়ারি(বুধবার) শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে বসা নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলায় তিনি নিহত হন।

