বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, দলের প্রধান পদে কোনো নারী দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। তিনি উল্লেখ করেছেন, এটি আল্লাহ প্রদত্ত সৃষ্টিগত পার্থক্যের কারণে সম্ভব নয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “নারীরা সন্তান জন্ম দিতে পারে, স্তন্যপান করাতে পারে; পুরুষরা তা করতে পারে না। আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন, আমরা তা পরিবর্তন করতে পারি না।” তিনি দাবি করেন, নারীদের সম্মান জানানো এবং তাদের দায়িত্বের সীমাবদ্ধতাকে বোঝার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত কোনো নারী প্রার্থী না দেওয়ার কারণ হলো দলের প্রস্তুতি পর্যায়। ভবিষ্যতে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে নারীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রস্তুত করা হবে।
সাক্ষাৎকারে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে—জমির উত্থান, ইসলামী আইন প্রয়োগ, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা, ১৯৭১-এর ইতিহাস এবং ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক। সংখ্যালঘু ও ১৯৭১-এর সৃষ্ট সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কোনো নৃশংসতা বা অপরাধে জড়িত ছিল না।”
নারীদের কর্মঘণ্টা ও মাতৃত্বকালীন নীতির বিষয়ে প্রশ্নে তিনি জানান, “মা হওয়ার সময় নারীদের সম্মান দেখানো উচিত, যাতে তারা সন্তান লালন-পালন করতে পারে। এটি তাদের স্বাধীনতা সীমিত করা নয়।”
ডা. শফিকুর রহমান ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিবেশীদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক হবে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ। আমরা সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চাই।”
তিনি তরুণ প্রজন্ম ও ছাত্রসংগঠন সম্পর্কেও বলেন, “পাঁচটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্ররা ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষে ভোট দিয়েছে। তারা ইসলামী মূল্যবোধ এবং ছাত্র সংগঠনের নীতি রক্ষা করতে সচেতন।”

