নরসিংদী প্রতিনিধি:
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মোড় নিয়েছে। ১০-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমঝোতা অনুযায়ী এই আসনটি জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ছেড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে নির্ধারিত সময়ে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় জটিলতা তৈরি হয়েছিল।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, নরসিংদী-২ আসনে জামায়াত ইসলামীর পক্ষ থেকে প্রথমে মো. আমজাদ হোসাইনকে মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে জোটগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসনটি জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী গোলাম সরোয়ারকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াত হাইকমান্ড।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় নেতা-কর্মীদের আবেগ ও বাধাঁর মুখে জামায়াত প্রার্থী উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. আমজাদ হোসাইন যথাসময়ে তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি। এতে একই আসনে জোটের দুইজন শক্তিশালী প্রার্থী থেকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এই বিভ্রান্তি দূর করতে এবং জোটের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর একটি আনুষ্ঠানিক পত্র দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন:
১০-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের খাতিরে নরসিংদী-২ আসনটি এনসিপি-কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তিগত বা স্থানীয় কারণে জামায়াত প্রার্থী সময়মতো মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে না পারলেও তিনি এখন আর দলের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী নন। নির্বাচনী স্বচ্ছতা রক্ষার্থে এবং ভোটারদের বিভ্রান্তি এড়াতে ব্যালট পেপারে জামায়াতে ইসলামীর নির্ধারিত প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ না রাখার জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নরসিংদী-২ আসনে এখন জোটের একক প্রার্থী হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গোলাম সরোয়ারই জামায়াতের সমর্থন পাচ্ছেন। জামায়াত স্পষ্ট করেছে যে, ব্যালট পেপারে তাদের প্রতীক থাকলেও ভোটাররা যেন জোট মনোনীত এনসিপি প্রার্থীকেই সমর্থন দেন।
এদিকে, একই ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে চট্টগ্রাম-৮ আসনেও, যেখানে জামায়াত প্রার্থী মো. আবু নাসেরের পরিবর্তে এনসিপি-র মো. জোবাইরুল হাসান আরিফকে সমর্থন জানানো হয়েছে।
এই চিঠিতে সাংগঠনিক জটিলতা দূর হলেও ধোঁয়াশা আরো ঘনীভূত হয়েছে। স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীরা জোটের প্রার্থীকে সমর্থন না জানিয়ে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর পক্ষে ই সাফাই গাইছেন।

