নওগাঁ প্রতিনিধি,হাবিবুর রহমান:
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিলকৃষ্ণপুর গ্রামের সান্টু রহমান ও মাহফুজা বেগমের ২০ বছরের সংসার । তাদের এক ছেলে আছে । এরই মধ্যে ২০১৩ সালে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে আমেরিকা প্রবাসী সামছুল আলমের সঙ্গে মাহফুজা বেগমের পরিচয় হয় । মোবাইল ফোনে বিভিন্ন সময় কথা বলার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা হয়ে পরকীয়ায় রূপ নেয়।
মাহফুজা বেগম তার প্রথম স্বামী সান্টু রহমানকে তালাক দেন । পরে নওগাঁর একটি কাজী অফিসে ৩৩ লাখ টাকা দেনমোহরে প্রবাসী সামছুল আলমকে বিয়ে করেন । বিয়ের ৩ মাস পর প্রবাসী আবারও আমেরিকায় ফিরে যান । এরপর কোনো ধরনের বৈধতা ছাড়াই সাবেক স্বামী সান্টু রহমানের সঙ্গে আবারও সংসার করছেন মাহফুজা বেগম । তবে প্রবাসী স্বামীর কাছ থেকে নিয়মিত সংসার খরচের টাকা নিচ্ছেন মাহফুজা বেগম । ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় ।অন্যদিকে, প্রবাসী সামছুল আলম তার প্রথম স্ত্রী রোকেয়া বেগমের কাছে দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি গোপন করে সংসার করে আসছেন ।
তবে তার আচরণে পরিবর্তন ও ভরণপোষণ সমস্যা হওয়ায় স্ত্রী রোকেয়া বেগম ও সন্তানদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয় । একপর্যায়ে পারিবারিক চাপে সামছুল আলম দ্বিতীয় বিয়ের কথা স্বীকার করেন যে, তাকে নওগাঁর এক নারীর সঙ্গে ফাঁসিয়ে বিয়ে দেওয়া হয়েছে ।
সামছুল আলম প্রবাসে থাকায় বিষয়টির কথা জানান জন্য আমেরিকা প্রবাসী সামছুল আলমের টেলিফোন নাম্বার না পাওয়া তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সান্টু রহমান ও মাহফুজা বেগমের সাথে যোগাযোগ করা চেষ্টা করে না পাওয়া তাদের বক্তব্য দেওয়া সমভাব হয়নি।
নওগাঁর আইনজীবী আতাউর রহমান জানান, বিভিন্ন ধর্ম ও দেশের আইনে বহুবিবাহ নিয়ে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। অধিকাংশ ধর্ম ও আইন অনুযায়ী একজন নারীর একাধিক স্বামী থাকা নিষিদ্ধ । ইসলামে পুরুষের সর্বোচ্চ চারজন স্ত্রী রাখার অনুমতি থাকলেও নারীদের ক্ষেত্রে একাধিক স্বামী রাখা সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ । আইন অনুযায়ী, অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে।

