শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠান রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। মঞ্চে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে গুরুতর আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম মারা গেছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মঞ্চে বসার পর সামনের সারির চেয়ার নিয়ে দু’পক্ষের কর্মীদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
মৃত্যু: সংঘর্ষে মারাত্মক আহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ৯:৪৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
আহত: সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে তারা স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ক্ষয়ক্ষতি: বিক্ষুব্ধ কর্মীরা কয়েক’শ চেয়ার ভাঙচুর ছাড়াও অনুষ্ঠানস্থলে থাকা বেশ কিছু মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে।
প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ঘটনাটি নিয়ে প্রধান দুই জোট শরিকের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে:
নুরুজ্জামান বাদল (জামায়াত প্রার্থী): তিনি অভিযোগ করেন, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা এবং তাদের ৩০ জনের বেশি কর্মী আহত হয়েছেন।
মাহমুদুল হক রুবেল (বিএনপি প্রার্থী): অপরদিকে তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত কর্মীরাই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল জানিয়েছেন, চেয়ারে বসা নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঝামেলার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা জানান, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক থাকলেও এখনো কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

