মোঃ জালাল হোসেন, ক্রাইম রিপোর্টার
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে জিরার চাষ শুরু হওয়ায় কৃষকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ এবং অর্থকরী ফসল হিসেবে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে এই মসলা ফসল।
চলতি মৌসুমে গোদাগাড়ী উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩ বিঘা বা ১ একর জমিতে জিরার আবাদ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, বিঘাপ্রতি গড় ফলন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১১০ কেজি। সে হিসাবে এক একর জমি থেকে প্রায় ৩৩০ কেজি জিরা উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। স্বল্প খরচ ও কম পরিশ্রমে অধিক লাভের আশায় স্থানীয় কৃষকরা জিরা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত দেশের প্রথম উচ্চফলনশীল জাত ‘বারি জিরা-১’ চাষ করেই এই সফলতা এসেছে। জাতটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো—বেলে-দোঁআশ ও সুনিষ্কাশিত উর্বর মাটিতে ভালো ফলন
মাত্র ১০০ থেকে ১১০ দিনের মধ্যেই ফসল সংগ্রহযোগ্য সঠিক পরিচর্যায় হেক্টরপ্রতি ৬০০ থেকে ৮০০ কেজি পর্যন্ত ফলনের সম্ভাবনা জিরা একটি রবি শস্য, যা সাধারণত নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে বপন করা হয়।
হেক্টরপ্রতি মাত্র ৮ থেকে ১০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। ধানসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় এতে সেচ ও সারের খরচ কম হওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে কম। অন্যদিকে বাজারে জিরার দাম আকাশচুম্বী থাকায় কৃষকরা হেক্টরপ্রতি মোটা অঙ্কের লাভের স্বপ্ন দেখছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার মরিয়ম আহমেদ বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে আমরা গোদাগাড়ীতে জিরা চাষ নিয়ে কাজ করছি। এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল। খরচ ও পরিশ্রম কম হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে জিরা চাষে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশের চাহিদা পূরণ এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে জিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
জিরা শুধু রান্নার মসলা নয়; এতে রয়েছে ওষুধি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণাগুণ। বরেন্দ্র অঞ্চলের শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়া জিরা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে গোদাগাড়ী হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম ‘মসলা ভাণ্ডার’। যথাযথ সরকারি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ পেলে এখানকার উৎপাদিত জিরা বিদেশে রপ্তানিরও উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

