উৎফল বড়ুয়া
দেশের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের শীর্ষ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো ‘ন্যাশনাল স্কিলস ডায়ালগ ২০২৬’।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকার বনানীর হোটেল শেরাটনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়।
ডায়ালগে বক্তারা অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন, বাংলাদেশকে কেবল ‘শ্রম রপ্তানিকারক’ দেশ হিসেবে থাকলে চলবে না। বিশ্ববাজারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে আমাদের ‘দক্ষতা রপ্তানি’র দিকে নজর দিতে হবে। উৎপাদনশীলতা, পেশাদারিত্ব এবং আন্তর্জাতিক মানের যোগ্যতাসম্পন্ন জনশক্তিই হবে আমাদের আগামীর সম্পদ। দক্ষতাকে কেবল একটি খাতের বিষয় না দেখে একে জাতীয় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ট্রেইনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ট্রেইনার্স) সভাপতি ড. কে এম হাসান রিপন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ভবিষ্যতের মুদ্রা হলো দক্ষতা। আমাদের তরুণ সমাজকে কেবল চাকরির পেছনে ছুটলে চলবে না, বরং তাদের এমনভাবে দক্ষ করে তুলতে হবে যাতে তারা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে।”
ট্রেইনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী সহ-সভাপতি ইউসুফ এফতি একটি স্বাধীন ও যুগোপযোগী মানবসম্পদ উন্নয়ন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনা ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা ছাড়া আমাদের শিক্ষা আর শ্রমবাজারের এই দূরত্ব দূর করা সম্ভব নয়।”
অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশের (এপিইউবি) সভাপতি ড. মো. সবুর খান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেবল সার্টিফিকেট দেওয়ার কারখানায় পরিণত করলে চলবে না। শিক্ষার প্রতিটি স্তরে কর্মসংস্থান ও শিল্পের অভিজ্ঞতাকে যুক্ত করতে হবে, যাতে স্নাতক শেষ করেই একজন শিক্ষার্থী সরাসরি কাজে নামার সাহস পায়।”
সম্মানিত অতিথিবৃন্দ:ডায়ালগে আরও উপস্থিত ছিলেন সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ এম ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ পরিচালক অধ্যাপক ড. আইরীন আক্তার, দেশবরেণ্য প্রশিক্ষক কাজী এম আহমেদ ও নিলুফার করিম, ক্রিয়েটিভ আইটির চেয়ারম্যান মনির হোসেন এবং জনতার দলের মুখপাত্র ডেল এইচ খান।
এছাড়াও ট্রেইনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক লায়লা নাজনীন, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মোরাদ হোসেন এবং পরিচালক (ইনোভেশন) জিয়া উদ্দিন মাহমুদসহ সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
একটি দক্ষ, কর্মঠ ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে এই সংলাপ শেষ হয়।

