আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া -৪ (কসবা-আখাউড়া) নির্বাচনী এলাকায় প্রশাসনের আচরণে নিরপেক্ষতার ঘাটতি এবং একটি দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জামায়াতে ইসলামের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো: আতাউর রহমান সরকার।
মঙ্গলবার দুপুরে আখাউড়া পৌর শহরের কলেজপাড়া এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমরা মনে করেছি এখানে নির্বাচনী মাঠ সমতল থাকবে। সকল দল সমান সুযোগ পাবে। প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকবে কিন্তু আনুষ্ঠানিক প্রচারণার পূর্বে একটি দল নির্বাচনে আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে মোটরসাইকেল শোডাউন, ব্যাপক উপস্থিতি নিয়ে মিটিং মিছিল চালিয়ে নমিনেশন পেপার জমা দিয়েছে। আমরা এগুলো প্রশাসনের দৃষ্টিতে এনেছি কিন্তু প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
এ সময় তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের নেতা কর্মীদের প্রচার কাজে বাধা দিচ্ছে। আমাদের ভ্যানার বিলবোর্ড ছিড়ে ফেলছে। উপজেলার ধরখার ইউনিয়নে আমাদের এক ভাইকে চরমভাবে লাঞ্ছিত করেছে। এ ব্যাপারে আমাদের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, আমরা আপনাদের মাধ্যমে অন্তবতীকালীন সরকারের কাছে আহবান জানাতে চাই তারা যেন একটি অবাধ সুষ্ঠ নিরপেক্ষ নির্বাচন করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। কিন্তু এখন তাদের আচরণ এবং ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ দেখতে পাচ্ছি। কসবা-আখাউড়ায় আপনাদের একদিকে ঝুকে যাওয়ার বিষয়টা আমরা লক্ষ্য করছি। নেতাকর্মীদের প্রচারণায় যারা বাধা দিচ্ছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কিছু কিছু ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সে তালিকা প্রশাসনের কাছে প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে বিরোধী দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, নিয়মিতভাবে আচরণবিধি ভঙ্গ করা হলেও নির্বাচন কমিশন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এমনকি প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগেও পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে তিনি উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে নদী-নালা, খাল-বিল সংরক্ষণ ও রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি যুব সমাজের জন্য উচ্চশিক্ষায় বিনামূল্যে স্কলারশিপ প্রদান, স্বাস্থ্যসেবা খাতের আধুনিকায়ন, পাঁচটি অ্যাম্বুল্যান্স সংযোজন, রাস্তাঘাট সংস্কার এবং এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করা হবে।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বোরহান উদ্দিন খান।এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা শিবির সভাপতি জুলফিকার হায়দার রাফী, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি সানাউল্লাহ, সাবেক উপজেলা শিবির সভাপতি শেখ ছাদেকুল ইসলাম,উপজেলা সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল হিমেল, জেলা এনসিপি নেতা এমএ মামুন শরীফ বাতেন, উপজেলা এনসিপি নেতা মো.রুবায়েদ,সাহেব আলী,প্রবাসী জামায়াত নেতা জামিল ভুইয়া প্রমুখ।

