হাসিন আরমান, কুবি প্রতিনিধি:
সরকারি অধ্যাদেশ অমান্য করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি হচ্ছে। আইন কার্যকর থাকার পরও ক্যাম্পাসের মূল ফটক ও আশপাশের এলাকায় একাধিক দোকানে অবাধে সিগারেট বিক্রি করতে দেখা গেছে।
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ৬(খ) অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থানসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া উপধারা (৩)– এ এই বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধানও রয়েছে।
এ বিষয়ে কুবি মূল ফটক সংলগ্ন এক সিগারেট বিক্রেতা বলেন, ‘এখানে কেউই আইন মানে না। আশপাশের সবাই সিগারেট বিক্রি করে, তাই আমিও করছি। অন্য এক বিক্রেতা বলেন, ‘এই আইনের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।’
এ বিষয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উসমান গণি বলেন, ‘যেখানে যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে এই আইন কার্যকর, সেখানে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তা মানা হচ্ছে না এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এর দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এড়িয়ে যেতে পারে না। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনেরও উচিত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।’
এ বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদের অধিবেশন না থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা আইন হিসেবে কার্যকর হয়। অধ্যাদেশ এবং সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইন—উভয়েরই আইনগত বল সমান।’
তিনি বলেন, ‘অধ্যাদেশ জারির পর তা কার্যকর আইন। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত দূরত্বের মধ্যে সিগারেট বিক্রি আইনত নিষিদ্ধ। এখানে ‘আইন জানতাম না’ কোনো বৈধ অজুহাত নয়—Ignorantia juris non excusat নীতিটি প্রযোজ্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘কুবি ক্যাম্পাসের ১০০ মিটারের মধ্যে সিগারেট বিক্রি অব্যাহত থাকা স্থানীয় প্রশাসনের তদারকির ঘাটতি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিষ্ক্রিয়তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবেরই প্রতিফলন। আইন কাগজে নয়, বাস্তবে কার্যকর হতে হবে।’
এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. আব্দুল হাকিম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় এরিয়ার বাইরে হলে এটা আমাদের অধীনে না। এই ব্যাপারে আমরা কোনো উদ্যোগ নিতে পারবনা। আমরা স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করব।’
কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) টিটু কুমার নাথ বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে তৎপর আছি এবং আমাদের সোর্স কাজ করছে। আমরা বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে অনিয়ম থাকলে মামলা দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। এ বিষয়ে যদি আমরা সুনির্দিষ্ট তথ্য পাই তাহলে যথাযোগ্য ব্যবস্থা নিব।

