মাহফুজুল হক পিয়াস, ইবি:
উদ্যোক্তা গড়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘কুহেলিকা উৎসব ১৪৩২’। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন ‘অভয়ারণ্য’র উদ্যোগে বটতলায় এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেতে উঠেছেন উৎসবের উচ্ছ্বাসে।
উৎসব প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। কুহেলিকা উৎসবে শিক্ষার্থীরা নিজ হাতে তৈরি করেছেন বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠা, হস্তশিল্প ও কারুকার্যের পসরা। কেউ পিঠার স্বাদ নিতে, কেউ গহনা-পোশাক দেখতে বা প্রিয়জনকে চিঠি লিখতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
পিঠার স্টলে ছিল সুইচ রোল পুলি, সুজির মালাই চাপ, ম্যারা পিঠা, নারকেলপুলি, দুধচিতই, ভাপা পিঠা, ফুলঝুরি পিঠা, সেমাই পিঠা, গোলাপ পিঠা, ডালের পিঠা, পুডিং, দুধ মালাই রিং, দুধ সন্দেশ, নারকেল চমচম, তেলের পিঠা, নারকেল পাকন ও পাটিসাপ্টা। এসব পিঠায় ফুটে উঠেছে বাঙালি সংস্কৃতির বৈচিত্র্য।
পরিবেশ বিজ্ঞান ও ভূগোল বিভাগের শিক্ষার্থী হেলেনা হাসি বলেন, “অভয়ারণ্যের আয়োজনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। আমাদের সিনিয়র ভাইয়া-আপুরা তাঁদের তৈরি হস্তশিল্প ও কারুকার্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। এটি তাঁদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম।”তিনি জানান, তিনি ‘কারুকার্য’ নামের একটি স্টল থেকে হাতে তৈরি মালা কিনেছেন এবং বিভিন্ন স্টলের পিঠা ও মালাই রোলের স্বাদ নিয়েছেন। তার মতে, “খাবারগুলো অত্যন্ত যত্ন ও মমতা দিয়ে তৈরি ছিল।”
এ বিষয়ে অভয়ারণ্যের সভাপতি নাঈমুল ফারাবী বলেন, “‘কুহেলিকা’ নামটা এসেছে ‘কুয়াশা’ থেকে। শীতকে বরণ করে নেওয়ার ভাবনা থেকেই উৎসবের নামকরণ করা হয়েছে। এবারের কুহেলিকা উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হলো ‘উদ্যোক্তা মেলা’। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে যারা নতুন উদ্যোক্তা হতে চান বা ক্ষুদ্র পরিসরে ব্যবসা শুরু করেছেন, তাদের জন্য এটি একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম।”
তিনি আরও বলেন, “গত চার বছর ধরে সফলভাবে এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ব্যবসায়িক উদ্যোগগুলোকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরেছি। এটি শিক্ষার্থীদের স্বাবলম্বী ও সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

