আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান অংশ নেবে কি না—সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে আজই। সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভির বৈঠকের পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।
আইসিসির সিদ্ধান্তে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে পাকিস্তানও টুর্নামেন্ট বর্জনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল। আজকের বৈঠকেই নির্ধারিত হতে পারে বাবর আজমদের বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম সামা টিভির তথ্যমতে, লন্ডন সফর শেষে আজ লাহোরে ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের। দেশে ফেরার পরপরই তিনি পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। সেখানে বিশ্বকাপ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, আইসিসির ভূমিকা এবং সম্ভাব্য বিকল্প পথগুলো প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরবেন নকভি। সরকারের দিকনির্দেশনার ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে পিসিবি।
এদিকে পাকিস্তানি দৈনিক দ্য নিউজ জানিয়েছে, বাংলাদেশ ইস্যুতে আইসিসির ভূমিকা নিয়ে সরকারের ভেতরে অসন্তোষ বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠেয় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান দল পাঠানোর অনুমতি নাও দিতে পারে ফেডারেল সরকার—এমন আলোচনা চলছে।
দ্য নিউজকে এক জ্যেষ্ঠ সরকারি সূত্র জানায়, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীই নেবেন। তবে প্রাথমিক আলোচনায় সরকারের অবস্থান বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিপক্ষে যেতে পারে। সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি কেবল ক্রিকেটে সীমাবদ্ধ নয়, বরং নীতিগত অবস্থানের সঙ্গেও জড়িত। বাংলাদেশের সঙ্গে আইসিসির আচরণকে অন্যায্য বলে মনে করছে পাকিস্তান।
এর আগে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি জানিয়েছেন, নীতিগত কারণে পাকিস্তান বাংলাদেশের পাশে অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, ক্রিকেটকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা কোনো পক্ষের জন্যই ইতিবাচক নয়। তবে সরকার যে সিদ্ধান্ত দেবে, পিসিবি তা বাস্তবায়ন করবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
উল্লেখ্য, নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়েছে আইসিসি। তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইসিসির দাবি, দীর্ঘ পর্যালোচনা ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে ভারতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য কোনো গ্রহণযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি পাওয়া যায়নি।

