দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েদের ফুটসালের প্রথম আসরেই ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ নারী দল। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত সাফ উইমেন’স ফুটসালের শেষ ম্যাচে মালদ্বীপকে ১৪–২ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাউন্ড রবিন লিগের ষষ্ঠ ও শেষ ম্যাচে মাঠে নামে বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরুতে মালদ্বীপ এগিয়ে গেলেও দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে দাপটের সঙ্গে খেলতে থাকে সাবিনা খাতুনদের দল। এই জয়ের ফলে ছয় ম্যাচে পাঁচ জয় ও এক ড্র নিয়ে ১৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে টেবিলের শীর্ষে থেকেই শিরোপা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৯–১ গোলের বড় জয় শিরোপার পথে বাংলাদেশকে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছিল। সেই ম্যাচে অধিনায়ক সাবিনা খাতুন চারটি গোল করেন। পাশাপাশি নুসরাত জাহান করেন দুই গোল, জালের দেখা পান কৃষ্ণা রানী সরকারও। প্রথমার্ধেই ৬–০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ।
মালদ্বীপের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিশ্চিত ছিল বাংলাদেশের। তবে কোনো সমীকরণের দিকে না তাকিয়ে বড় জয় দিয়েই নতুন এই ফরম্যাটের ট্রফি নিজেদের করে নেয় দলটি।
সাইদ খোদরহমির অধীনে পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ভারতকে ৩–১ গোলে হারিয়ে শুরু করা যাত্রায় ভুটানের বিপক্ষে ৩–৩ ড্র করে দলটি। এরপর নেপালকে ৩–০, শ্রীলঙ্কাকে ৬–২ এবং পাকিস্তানকে ৯–১ গোলে পরাজিত করে শিরোপার শক্ত দাবিদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে।
ভারত ও ভুটানের মতো প্রতিপক্ষকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জন্য নতুন এক অর্জন। এর আগেই সাফ উইমেন’স চ্যাম্পিয়নশিপে টানা দুইবার শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে দলটির।
সাফ উইমেন’স ফুটসালের প্রথম আসরে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ইতিহাসে এক স্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাবিনা খাতুনের নেতৃত্ব ও দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

