Bangla FM
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • কলাম
  • ভিডিও
  • অর্থনীতি
  • ক্যাম্পাস
  • আইন ও আদালত
  • প্রবাস
  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  • মতামত
  • লাইফস্টাইল
No Result
View All Result
Bangla FM

সারাবিশ্বে বিচরণ করেছেন র‍্যাডিক্যাল হিউম্যানিস্ট ও কিংবদন্তী কমিউনিস্ট বিপ্লবী এমএন রায়

Bangla FM OnlinebyBangla FM Online
১১:৪১ am ২৫, জানুয়ারী ২০২৬
in Semi Lead News, কলাম
A A
0

সৈয়দ আমিরুজ্জামান

“Our object is the economic freedom of the producing classes; this ultimate goal will be attained after a long and bitter struggle; Therefore our primary task is to organize the masses and lead them in the struggle for economic freedom.”
-M. N. Roy

সারাবিশ্বে বিচরণ করেছেন কিংবদন্তী কমিউনিস্ট বিপ্লবী ও র‍্যাডিক্যাল হিউম্যানিস্ট কমরেড মানবেন্দ্রনাথ রায় (এমএন রায়)। ২৫ জানুয়ারি মেক্সিকো আর সর্ব ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, মহান এই বিপ্লবীর ৭২তম মৃত্যুবার্ষিকী। তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও অভিবাদন!

মহান এই কমরেডের পিতা দীনবন্ধু ভট্টাচার্য পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার আড়বেলিয়া গ্রামে মাইনর ইংরেজি স্কুলের সংস্কৃত শিক্ষক ছিলেন। ১৮৮৭ সালের ২১ মার্চ মানবেন্দ্রনাথের জন্ম। তাঁর পিতৃ প্রদত্ত নাম নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য এবং ১৯১৬ সাল পর্যন্ত এ নামেই তিনি পরিচিত ছিলেন। বিপ্লবী কর্মকান্ডের প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে সি. মার্টিন, হরি সিং, মি. হোয়াইট, ডি. গর্সিয়া, ড. মাহমুদ, মি. ব্যানার্জী প্রভৃতি নাম গ্রহণ করলেও তিনি মানবেন্দ্রনাথ রায় (এম.এন রায়) নামেই সমধিক পরিচিত। গ্রেফতার এড়াতে তিনি সানফ্রান্সিসকোতে এ নাম গ্রহণ করেন।

নরেন আড়বেলিয়ায় প্রাথমিক শিক্ষালাভ করেন। ১৮৯৮ সালে তাঁর পরিবার আড়বেলিয়া থেকে কোদালিয়ায় স্থানান্তরিত হয়। এখানে তিনি হরিনাভি অ্যাংলো-সংস্কৃত বিদ্যালয়ে ১৯০৫ সাল পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। সমাজসেবার প্রতি আগ্রহ থেকে তিনি মহামারী ও দুর্ভিক্ষপীড়িতদের পরিচর্যার জন্য একটি স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করেন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও স্বামী বিবেকানন্দের রচনা তাঁকে উৎসাহিত করে। বঙ্গভঙ্গের সূচনাকালে তিনি উগ্র জাতীয়তাবাদীদের সংস্পর্শে আসেন। ১৯০৫ সালে প্রধান শিক্ষকের আদেশ অমান্য করে সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জীর সংবর্ধনা সভায় উপস্থিতি এবং মিছিলে অংশগ্রহণের অপরাধে নরেন কয়েক জন সহপাঠীসহ স্কুল থেকে বহিষ্কৃত হন। পরবর্তীকালে তিনি অরবিন্দ ঘোষের অনুশীলন সমিতির সংস্পর্শে আসেন।
নরেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (অরবিন্দ ঘোষ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত) থেকে এন্ট্রান্স পাস করেন। তারপর তিনি বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনষ্টিটিউটে প্রকৌশল ও রসায়ন শাস্ত্রে অধ্যয়ন করেন। সে সময়ে তিনি তাঁর গুপ্ত বিপ্লবী দলসহ সুন্দরবন এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে বোমা তৈরি এবং গুলি চালানো চর্চা করেন।

কিছু সময় তিনি বাঘা যতীনের সঙ্গে অনুশীলন সমিতির মুখপত্র যুগান্তর-এ কাজ করেন। তিনি তাঁর দলসহ হাওড়া-শিবপুর এলাকায় গুপ্ত কর্মকান্ডে লিপ্ত ছিলেন। ১৯১০ সালে তিনি গ্রেফতার হন এবং তাকে ‘হাওড়া-শিবপুর ষড়যন্ত্র মামলা’র আসামি করা হয়। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মামলার বিচার চলাকালে যতীন ও নরেন আটকাবস্থায় সারা ভারতে সশস্ত্র অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করেন। কারামুক্তির পর নরেন ১৯১৪ সাল পর্যন্ত সন্ন্যাসী বেশে বিভিন্নস্থানে বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তুলেন। বিপ্লবী সংগঠনসমূহ দূরপ্রাচ্য, পশ্চিম আমেরিকা ও জার্মানিতে ছড়িয়ে পড়ে। বার্লিনে ভারতীয় বিপ্লবী কমিটিও গঠন করা হয়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে বাঘা যতীন ও নরেন জার্মান সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান। তারা জার্মান সরকারের কলকাতাস্থ প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি জার্মান সামরিক ও অর্থ সাহায্যের নিশ্চয়তা প্রদান করেন। তদনুযায়ী নরেন চার্লস মার্টিন ছদ্মনামে বাটাভিয়ায় জার্মান কনসাল জেনারেলের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রেরিত হন। অস্ত্রের চালান ও গোলা-বারুদ সুন্দরবন এলাকায় পাঠানোর বন্দোবস্ত হয়। নরেন যতীনকে লুকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে বালেশ্বরে নিয়ে যান।

অস্ত্রের চালান না পৌঁছায় নরেন বাটাভিয়ায় ফিরে যান হরি সিং ছদ্মনামে এবং জার্মান কূটনীতিকদের অসহযোগিতা লক্ষ্য করেন। তিনি অস্ত্র ছাড়া ভারতে না ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। তাই মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইন্দো-চীন, ফিলিপাইন, কোরিয়া এবং জাপানে বিপ্ল­বীদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁর অভিযান অব্যাহত রাখেন।

নরেন মি. হোয়াইট নামে টোকিওতে সহকর্মী বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য জাপান গমন করেন। সেখানে নির্বাসিত চৈনিক প্রেসিডেন্ট ডা. সান ইয়াৎ-সেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁদের মধ্যে সিদ্ধান্ত হয় যে, আসাম সীমান্তের নিকটে নরেন দুই চৈনিক গভর্নরের নিকট থেকে জার্মান সরকার কর্তৃক মূল্য পরিশোধিত গোলা-বারুদ গ্রহণ করবেন। নরেন চীন গমন করেন এবং পিকিং-এ জার্মান রাষ্ট্রদূত জার্মান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য নরেনকে বার্লিনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি নরেনের জন্য ফাদার চার্লস মার্টিন নামে একটি পাসপোর্টের ব্যবস্থা করেন, যিনি নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে অধ্যয়নের জন্য আমেরিকা হয়ে ফ্রান্স যাবেন।

১৯১৬ সালের ১৪ জুন নরেন সানফ্রান্সিসকো পৌঁছান। পরের দিন প্রভাতী সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয় যে, ‘একজন বিপজ্জনক হিন্দু বিপ্লবী, জার্মান গুপ্তচর, আমেরিকায় পদার্পণ করেছে।’ নরেন অনতিবিলম্বে হোটেল পরিত্যাগ করে স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান। সেখানে তাঁর প্রখ্যাত বিপ্লবী সহকর্মী যদুগোপাল মুখোপাধ্যায়ের অনুজ অধ্যাপক ধনগোপালের আশ্রয় গ্রহণ করেন। ধনগোপাল অবিলম্বে তাঁর নাম পরিবর্তন করার উপদেশ দেন। তাঁরই উপদেশে নরেন মানবেন্দ্রনাথ রায় (এম.এন রায়) নাম গ্রহণ করেন। সানফ্রান্সিসকো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টের মেয়েকে তিনি বিয়ে করেন। মানবেন্দ্র দম্পতি নিউইয়র্কে লালা লাজপত রায়ের আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরিতে মার্কসবাদ অধ্যয়ন করেন।
১৯১৭ সালের এপ্রিল মাসে আমেরিকা জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং আমেরিকার পুলিশ ভারতীয় বিপ্লবীদের জার্মান চর হিসেবে গ্রেফতার করা শুরু করে। গ্রেফতার এড়াতে ড. জর্ডনের নিকট থেকে একখানি পরিচয়পত্র নিয়ে মানবেন্দ্র মেক্সিকো যান। এই পত্রের বরাতে তিনি প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি কারাঞ্জা ও সমর মন্ত্রিসহ উচ্চ পর্যায়ের অফিসারবৃন্দ ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগ পান। রাষ্ট্রপতি তাঁকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেন এবং একটি সম্মানজনক আবাস প্রদান করেন।

মানবেন্দ্র রায় অসংখ্য বক্তৃতা ও প্রবন্ধের মাধ্যমে ভারতের পক্ষে জনমত গঠন করেন। এ সময় তিনি স্প্যানিশ, ফরাসি ও জার্মান ভাষা শেখেন। রাষ্ট্রপতির আমেরিকা বিরোধী অবস্থানে রায় ছিলেন একজন বেসরকারি উপদেষ্টা। ১৯১৮ সালের আগস্ট মাসে মানবেন্দ্র রায় সাড়ম্বরে সোশ্যালিস্ট পার্টির সম্মেলন আয়োজন করেন। এ সময় বহু আমেরিকান সাংবাদিক, শিল্পী, কবি, বিজ্ঞানী ও দার্শনিক বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ এড়াবার জন্য মেক্সিকো পাড়ি জমান। রাষ্ট্রপতি কারাঞ্জা রায়ের জনপ্রিয়তায় খুশি হন। রায় এতো জনপ্রিয় ছিলেন যে, রাষ্ট্রপতি সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রতিনিধিরূপে একজন শ্রমমন্ত্রী মনোনয়নের জন্য রায়কে অনুরোধ করেন।

সে সময় লেনিনের দূত মাইকেল বরোডিন (১৮৮৪-১৯৫৩) মেক্সিকো গমন করেন। তিনি রায় দম্পতির অতিথি হিসেবে মেক্সিকোর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরিচিত হন। এর ফলে মেক্সিকো এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। ফলশ্রুতিতে বরোডিন মেক্সিকোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন এবং লেনিনের নিকট রায়ের কর্মকান্ডের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।

লেনিন ১৯২০ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে মস্কোয় অনুষ্ঠিত কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের দ্বিতীয় বিশ্ব কংগ্রেসের অধিবেশনে যোগদানের জন্য রায়কে আমন্ত্রণ জানান। মস্কোর পথে বার্লিনে অবস্থানকালে রায় বিশেষ করে মার্কসবাদের আদর্শগত দ্বন্দ্ব সম্পর্কে মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তিনি জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির ব্যর্থতা ও সামরিক শক্তির উত্থান প্রত্যক্ষ করেন।

মস্কোতে রায় লেনিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর ‘On National and Colonial Question’ শীর্ষক তত্ত্বের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। লেনিন রায়কে তাঁর নিজস্ব তত্ত্ব প্রদানের আহবান জানান। উভয় তত্ত্ব নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং কংগ্রেস কর্তৃক উভয় তত্ত্বই একত্রে গৃহীত হয়।

কংগ্রেস অধিবেশনের পর রায় কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের এশিয়ান ব্যুরোর দায়িত্ব পান। এর সদর দফতর স্থাপিত হয় তাসখন্দে। তিনি গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানের খোরাশান প্রদেশের রাজধানী মাশাদ থেকে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীকে বিতাড়িত করেন। রক্তপাতহীন বিপ্লবের মাধ্যমে বোখারায় সোভিয়েট সরকার গঠন করেন। খিলাফত আন্দোলনে ভারতীয় মোহাজেরদের পুনর্বাসিত করেন। তাদের মধ্য থেকে শিক্ষিতদেরকে সমাজতান্ত্রিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং তাদের জন্য একটি সামরিক বিদ্যালয়ও স্থাপন করেন। তিনি ১৭ অক্টোবর ১৯২০ সালে তাসখন্দে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি গঠন করেন।

১৯২১ সালের আগস্টে রায় কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের তৃতীয় বিশ্ব সম্মেলনে যোগ দেন। ১৯২২ সালে কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক রায়ের India in Transition নামক গ্রন্থ চার ভাষায় প্রকাশ করে। রায় মস্কোতে শ্রমিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২৩ সালে তিনি তাঁর সদর দফতর বার্লিনে স্থানান্তর করেন এবং ভারতের জন্য লেখনী বিপ্লব শুরু করেন। তিনি The Vanguard of Indian Independence পত্রিকা প্রকাশ করেন এবং ভারতে পাঠান। ভারত সরকার তাৎক্ষণিকভাবে এ পত্রিকা নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে তিনি Advanced Guard শিরোনামে এটি পুনঃপ্রকাশ করেন। এটিও নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। সর্বশেষে তিনি The Masses পত্রিকা প্রকাশ করেন এবং সেটিও নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।

লেনিনের জীবদ্দশায় রায় কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের সকল উচ্চপদ লাভ করেন। ১৯২৪ সালে লেনিনের মৃত্যুর পর তিন বছর তা বজায় থাকে। কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের চৈনিক কমিশনের যুগ্ম-সচিব হিসেবে রায়কে কমিউনিস্ট ও কু মিন তুং-এর মধ্যে বিবাদ নিরসনে আলোচনার জন্য চীনে প্রেরণ করা হয়। বিবাদ নিষ্পত্তিতে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও বরোডিনের মতের সঙ্গে রায়ের মতভেদ হয়। ফলে চিয়াং কাই শেক কমিউনিস্ট আন্দোলনকে নির্মমভাবে দমন করেন। মস্কো ফিরে রায় অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য তাঁকে বার্লিনে নেওয়া হয়। ১৯২৯ সালের ডিসেম্বর মাসে রায়ের অনুপস্থিতিতে বিরোধী কমিউনিস্ট সংবাদপত্রে রচনা প্রকাশ করার অপরাধে কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। রায় বার্লিনে অবস্থানকালে Revolution and Counter-Revolution in China এবং Decline and Fall of British Empire রচনা করেন।

এম.এন রায় ১৯৩০ সালে ড. মাহমুদ নামে ভারতে প্রত্যাবর্তন করেন। ১৯৩১ সালের জুলাই মাসে তিনি বোম্বাই শহরে গ্রেফতার হন এবং রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে কানপুর জেলে বিচারে ১২ বছর সশ্রম কারাদন্ড হয়। আপিল করে কারাদন্ডের মেয়াদ ৬ বছর কমানো হয়। কারাগারে বসে তিনি Philosophical Consequences of Modern Science নামে একটি বিশাল গ্রন্থ রচনা করেন। জেলখানায় রচিত গ্রন্থের তথ্য অবলম্বনে ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে তাঁর নিম্নলিখিত গ্রন্থগুলি প্রকাশিত হয়: Materialism, The Historical Role of Islam, Heresies of 20th Century, Science and Superstition, Man and Nature, From Savagery to Civilization, Nationalism: An Antiquated Cult, The Philosophy of Fascism, The Ideal of Indian Womanhood, Letters from Jail, Memoir of a Cat, Science and Philosophy এবং India’s Message।

১৯৩৬ সালে কারামুক্তির পর রায় ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসে যোগদান করেন এবং ‘দি লীগ অব র‌্যাডিক্যাল কংগ্রেসম্যান’ গঠন করেন। তিনি সুভাষচন্দ্র বসুকে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সভাপতি হতে সমর্থন জানান। কংগ্রেসের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে যুদ্ধনীতি নিয়ে তাঁর ও তাঁর অনুসারীদের মতানৈক্যের কারণে তিনি কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৪০ সালে তিনি গঠন করেন র‌্যাডিক্যাল ডেমোক্রাটিক পার্টি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তিনি প্রবলভাবে মিত্র শক্তিকে সমর্থন করেন, কারণ তিনি অনুধাবন করেন যে, ক্ষয়িষ্ণু সাম্রাজ্যবাদ ফ্যাসিবাদের চেয়ে কম ক্ষতিকর।
১৯৪০ থেকে ১৯৪৬ সালের মধ্যে রায় কিছু গ্রন্থ রচনা করেন: India and War, Alphabet of Fascist Economy, Draft Constitution of Free India, People’s Freedom, Poverty or Plenty, The Problems of Freedom, INA and the August Revolution, Jawaharlal Nehru: The Last Battle for Freedom। তিনি দেরাদুনে ১৯৪০ সালে পাঠচক্র পরিচালনা করেন এবং The Scientific Politics নামক গ্রন্থ রচনা করেন। ১৯৪৬ সালে অন্য একটি পাঠচক্র পরিচালনা করে তিনি New Orientation রচনা করেন। Constituent Assembly গঠনের জন্য তিনি অরাজনৈতিক ভিত্তিতে নির্বাচনের সুপারিশ করেন। এই নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই স্বাধীন ভারতের সংবিধান রচনাকারী হবেন। তিনি ক্ষমতার পূর্ণবিকেন্দ্রীকরণ এবং দুর্নীতি দমনের একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন।

রায় মার্কসবাদের সংশোধিত রূপ প্রকাশ করেন তাঁর Beyond Marxism ও New Humanism গ্রন্থে। ১৯৪৭ সালে রায় ১৯১৭ সাল থেকে রাশিয়ার ঘটনাক্রমসমূহ যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করেন। ১৯৪৮ সালে র‌্যাডিক্যাল ডেমোক্রাটিক পার্টির বিলোপ সাধন করে তিনি ইন্ডিয়ান রেনেসাঁস ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। Reason, Romanticism and Revolution তাঁর যুগান্তকারী রচনা। এরপর তিনি তাঁর জীবনস্মৃতিমূলক গ্রন্থ রচনা আরম্ভ করেন, যা তিনি সম্পন্ন করে যেতে পারেন নি।
মানবেন্দ্রনাথ রায়ের ১৯৫৪ সালের ২৫ জানুয়ারি মধ্যরাতে দেরাদুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। অমৃতবাজার পত্রিকা তাঁকে ‘সারাবিশ্বে বিচরণকারী নিঃসঙ্গ সিংহ’ বলে উল্লেখ করে।

মহান ও কীর্তিমান মানুষদের নিয়ে সব সময়ই লেখা যায় আমরা এটা বিশ্বাস করি। পরিশেষে, সমাজতন্ত্র অভিমুখী অসাম্প্রদায়িক জনগণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সমতা-ন্যায্যতার প্রশ্নে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনেই অগ্নিযুগের মহান এই বিপ্লবীর রাজনীতি, জীবন সংগ্রাম, কীর্তি, ইতিহাস ও অনুশীলন সম্পর্কে পাঠ প্রাসঙ্গিক ও জরুরী। ৭২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সারাবিশ্বে বিচরণকারী কিংবদন্তী কমিউনিস্ট বিপ্লবী ও র‍্যাডিক্যাল হিউম্যানিস্ট কমরেড মানবেন্দ্রনাথ রায় তোমায় সালাম!

র‍্যাডিক্যাল হিউম্যানিস্ট ও কিংবদন্তী কমিউনিস্ট বিপ্লবী এমএন রায়কে উৎসর্গ করে লেখা কবিতা—

বিপ্লবী এমএন রায়

— সৈয়দ আমিরুজ্জামান |

অগ্নিযুগের রক্তরাঙা প্রভাত ভেঙে জন্ম নিলে,
আড়বেলিয়ার মাটির বুকে বজ্রশিশুর মতো এলে।
নরেন নামে ডাকল গ্রাম, ইতিহাস দিল রায় নাম,
পৃথিবী জুড়ে ছড়াল শেষে বিদ্রোহী মানুষের দাম।

সংস্কৃত পাঠ, শাস্ত্রের পাঠ, বুকে জমল আগুনখানা,
বঙ্কিম, বিবেক জাগিয়ে দিল শৃঙ্খল ভাঙার জানা।
স্কুলের বেঞ্চে শিকল মানে? মানে না যে মন স্বাধীন,
মিছিলে নামা অপরাধে বহিষ্কারই প্রথম দিন।

অনুশীলন, যুগান্তরের গোপন অন্ধকারে দাঁড়িয়ে,
বোমার শব্দ নয়—স্বপ্ন ছিল শোষণতন্ত্র ভাঙিয়ে।
সুন্দরবনের নোনা হাওয়ায় শপথ নিল যুবদল,
মুক্তি আসবে রক্ত মেখে—এই ছিল অটল ফল।

হাওড়া-শিবপুর কারাগারে লোহার শিকল ঝনঝন,
কিন্তু ভাবনা উড়ে বেড়ায়—সারা ভারতের কণ্ঠস্বর।
সন্ন্যাসীর বেশ, ছদ্মনাম, দেশ থেকে দেশান্তরে,
বিপ্লব হলো বিশ্বময়—এক মানুষের অন্তরে।

জার্মান দূত, জাপান পথ, চীনের বিপ্লবী হাত,
সান ইয়াত সেনের চোখে দেখে এশিয়ার নতুন প্রভাত।
মার্টিন, হরি, হোয়াইট, মাহমুদ—নাম বদলায় বারবার,
মানুষ বদলায় না কখনো—লক্ষ্য থাকে একাকার।

সানফ্রান্সিসকোর বন্দরে নেমে বিপদের খবর,
“এক বিপ্লবী এসেছে”—কেঁপে ওঠে সাম্রাজ্য ঘর।
স্ট্যানফোর্ডে আশ্রয় নিয়ে জন্ম নিল রায় নাম,
নরেন থেকে মানবেন্দ্র—ইতিহাসে নতুন ধাম।

নিউইয়র্কের গ্রন্থাগারে মার্কস পড়ে রাতদিন,
শোষিত মানুষের মুক্তিই জীবনের একমাত্র ঋণ।
মেক্সিকোর রৌদ্রতাপে সমাজতন্ত্রের বীজ,
রাষ্ট্রপতির দরবারে রায়—জনতার কণ্ঠসীজ।

লেনিনের দূত এলো যখন, ইতিহাস নিল মোড়,
মস্কো ডাকল বিপ্লবীকে—বিশ্ব হলো এক ঘোর।
লেনিনের সাথেই তর্ক করে বলল সাহসী স্বর,
জাতি প্রশ্নে একমাত্র পথ নয় বন্দুকের জ্বর।

কমিন্টার্নের মঞ্চে দাঁড়িয়ে দিল নিজস্ব তত্ত্ব,
ঔপনিবেশিক মুক্তি মানে জনগণের শক্ত।
তাসখন্দে গড়ল পার্টি, ভারতের প্রথম লাল,
১৭ অক্টোবর ইতিহাসে উঠল নতুন ঢাল।

ইরানের মরু, বোখারার পথ, রক্তহীন বিজয়,
গেরিলা মানে শুধু যুদ্ধ নয়—মানুষ জাগার নয়।
মোহাজেরের অশ্রু মুছে দিল শিক্ষার আলোয়,
সামরিক পাঠ নয়—মানবিক পাঠেই ছিল ভরসা রয়।

বার্লিনে কলম ধরল রায়, কাগজ হলো অস্ত্র,
ভ্যানগার্ড, ম্যাসেস পত্রিকা—ব্রিটিশ হলো ব্যস্ত।
নিষেধ আসে, আবার ছাপে, শব্দ থামে না আর,
কলম জানে—সত্য মানে দীর্ঘতম লড়াই-ভার।

চীনের পথে মতভেদে ভাঙল কমিন্টার্ন,
স্তালিনের ছায়া নেমে এলো, তত্ত্ব হলো বন্ধন।
রেভোলিউশন অ্যান্ড কাউন্টার—কলমে দিল জবাব,
ইতিহাসে রেখে গেল এক বিপন্ন মানব দাব।

ড. মাহমুদ ছদ্মবেশে ফিরল মাতৃভূমিতে,
কারাগারে নিল ঠাঁই সে—স্বাধীনতার প্রহরীতে।
বারো বছর শিকল বেঁধে ছয় বছরে নামল রায়,
জেলখানাতেই লিখল সে—বিজ্ঞানের দর্শন প্রায়।

বিজ্ঞান বনাম কুসংস্কার, মানুষ বনাম ভয়,
ফ্যাসিবাদের দর্শন খোলস ছাড়ল তারে ছোঁয়।
জাতীয়তাবাদ পুরনো দেব, বলল সে নির্ভীক,
মানুষ আগে—এই কথাই তার সবচেয়ে গভীর নীতিক।

কংগ্রেসে গিয়ে বলল কথা—যুদ্ধ মানে কী,
ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে হলে মিত্রই কম ক্ষতিকী।
র‌্যাডিক্যাল ডেমোক্রেসি—ক্ষমতার বিকেন্দ্রণ,
রাষ্ট্র নয়—মানুষই হোক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু জন।

মার্কসের বাইরে গিয়ে ভাবল নতুন মানবতাবাদ,
নিউ হিউম্যানিজমে বলল—যুক্তিই মানুষের সাধ।
রিজন, রোমান্টিসিজম, রেভোলিউশনের গান,
এক জীবনে লিখে গেল বহু সভ্যতার দান।

দেরাদুনের নীরব রাতে থামল বিপ্লবী শ্বাস,
কিন্তু থামল না তার ভাব, থামল না তার আশ।
নিঃসঙ্গ সিংহ—বলল কাগজ—বিশ্ব ছিল তার বন,
মানুষ ছিল তার ধর্ম, যুক্তি ছিল তার ধন।

আজও যখন শোষণ ফেরে নতুন নতুন মুখে,
আজও যখন রাষ্ট্র দাঁড়ায় মানুষের বুকে,
তখন রায় ডাক দেয় আমাদের—ভাবতে, লড়তে, লিখতে,
মানুষ হতে সাহসী হয়ে ক্ষমতার চোখে চোখ রাখতে।

বাংলাদেশের পথচলায় সমতা-ন্যায়ের গান,
রায়ের পাঠ আজও প্রাসঙ্গিক—অত্যন্ত প্রয়োজনীয় জ্ঞান।
সারাবিশ্বে বিচরণকারী সেই বিপ্লবী নাম,
মানবেন্দ্রনাথ রায়—তোমায় লাল সালাম।

সৈয়দ আমিরুজ্জামান
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট;
বিশেষ প্রতিনিধি, ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট ও সাপ্তাহিক নতুনকথা;
সম্পাদক, আরপি নিউজ;
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জাতীয় কৃষক সমিতি;
‘৯০-এর মহান গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক ও সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী।
সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়ন।
সাধারণ সম্পাদক, মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় জাতীয় কমিটি।
প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ আইন ছাত্র ফেডারেশন।
E-mail : syedzaman.62@gmail.com

ShareTweetPin

সর্বশেষ সংবাদ

  • মৌলভীবাজারে ডেঙ্গু রোধে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি
  • বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নতুন প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন
  • দুই দিনের বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরে পেল চা-বাগান
  • শামা ওবায়েদের নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক সুবিধা বন্ধে প্রশাসনের সব দপ্তরে চিঠি
  • ফরিদপুরে সেতুর বেহাল দশা, ভোগান্তি চরমে

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুর ইসলাম (রাশেদ মানিক)
নির্বাহী সম্পাদক: মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ

বাংলা এফ এম , বাসা-১৬৪/১, রাস্তা-৩, মোহাম্মদিয়া হাউজিং লিমিটেড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ

ফোন:  +৮৮ ০১৯১৩-৪০৯৬১৬
ইমেইল: banglafm@bangla.fm

  • Disclaimer
  • Privacy
  • Advertisement
  • Contact us

© ২০২৬ বাংলা এফ এম

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • প্রবাস
  • ভিডিও
  • কলাম
  • অর্থনীতি
  • লাইফস্টাইল
  • ক্যাম্পাস
  • আইন ও আদালত
  • চাকুরি
  • অপরাধ
  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  • ফটোগ্যালারি
  • ফিচার
  • মতামত
  • শিল্প-সাহিত্য
  • সম্পাদকীয়

© ২০২৬ বাংলা এফ এম