শীতে শৈত্যপ্রবাহের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজধানীবাসীর ভোগান্তি। একদিকে পাইপলাইনের গ্যাসে দীর্ঘ খরা, অন্যদিকে রান্নার শেষ ভরসা এলপিজি সিলিন্ডারের বাজারে চলছে চরম নৈরাজ্য। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই সংকটে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও শ্যামলীসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখন দিশেহারা। সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৩০৬ টাকার ১২ কেজির সিলিন্ডার কোথাও ২ হাজার, আবার কোথাও ২ হাজার ৫০০ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
সরকারি সংস্থা তিতাসের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের দোহাই দিয়ে শনিবার দুপুর থেকে আজ রবিবার দুপুর পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ তলানিতে নেমে এসেছে। মহেশখালীর একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় সরবরাহ কমেছে প্রায় ১০ কোটি ঘনফুট। ফলে মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা রবিন হাসানের মতো হাজারো গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন—”মাসে ১ হাজার ৮০ টাকা বিল দিচ্ছি, আবার আড়াই হাজার টাকায় সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। কষ্ট দেখার কেউ নেই!”
বাজারে এলপিজির কোনো সরবরাহ নেই বললেই চলে। পেলেও গুনতে হচ্ছে দিগুণ দাম। মিরপুরের শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা সুরাইয়া সেঁজুতি জানান, দীর্ঘক্ষণ খুঁজে ২ হাজার ২৫০ টাকায় একটি সিলিন্ডার পেয়েছেন তিনি। গৃহিণীরা বলছেন, এলপিজি না পেয়ে অনেকে বিদ্যুৎ-চালিত চুলার (ইনডাকশন) দিকে ঝুঁকছেন, যার ফলে বাজারে ওই চুলার দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এলপিজি আমদানিকারকরা এই সংকটের পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক বাজারে জাহাজ সংকটকে দায়ী করছেন। তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় আসন্ন রমজান ও জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আমদানির কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানুয়ারিতে ১ লাখ ৬৭ হাজার ও ফেব্রুয়ারিতে ১ লাখ ৮৪ হাজার টন আমদানির প্রতিশ্রুতি দিলেও মাঠপর্যায়ে তার সুফল এখনো মেলেনি।
চাহিদা ও সরবরাহ: তিতাসের দৈনিক চাহিদা ১৮০ কোটি ঘনফুট হলেও সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ১৪৫ কোটি। এলপিজি গ্রাহক: দেশে ১ কোটির বেশি গ্রাহক এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। বাজার দর: সরকার নির্ধারিত ১,৩০৬ টাকার সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২,০০০-২,৫৫০ টাকায়।
আমাদের পর্যবেক্ষণ: গ্যাসের এই দ্বিমুখী সংকট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পাইপলাইনে সরবরাহ আজ থেকে কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি জরুরি। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের এই ‘আগুন’ জনমনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করতে পারে।

