একসময়ের সফল ও জনপ্রিয় উদ্যোক্তা থেকে দেউলিয়ার দ্বারপ্রান্তে এ যেন বিশ্বাসভঙ্গ ও স্বজনের প্রতারণায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি প্রতিষ্ঠানের করুণ অধ্যায়। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তায় অবস্থিত স্বনামধন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘কাকলী ফার্নিচার’ ধ্বংসের নেপথ্যে স্বজনের প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও হিসাব গোপনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এস এম সোহেল রানা।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১১টায় কাকলী ফার্নিচার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপনের একপর্যায়ে তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিক, পরিবারের সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীদের চোখেও জল চলে আসে।
লিখিত বক্তব্যে এস এম সোহেল রানা বলেন, তার বোন জামাই আমান উল্লাহ (৪০) ও বোন কাকলী আমান (৩৫) পারিবারিক বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাকলী ফার্নিচারের অর্থ, জমি ও যানবাহন আত্মসাৎ করেছেন। তাদের অনিয়ম ও প্রতারণার কারণেই আজ একটি সম্ভাবনাময় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের মুখে।
তিনি জানান, তার বাবা মরহুম আবুল কাশেম ২০০০ সালের পর সততা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে কাকলী ফার্নিচার প্রতিষ্ঠা করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি সুনাম অর্জন করে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে আমান উল্লাহকে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করা হলেও তিনি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন। এরপরও পারিবারিক বিশ্বাসের কারণে তাকে অলিখিতভাবে অংশীদার করা হয়—যা পরবর্তীতে কাল হয়ে দাঁড়ায়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ব্যবসার অর্থ দিয়ে ছয়টি জমি ক্রয় করা হলেও সেগুলোর কোনো স্বচ্ছ হিসাব আজ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এছাড়া কাকলী ফার্নিচারের মালিকানাধীন একটি পিকআপ ভ্যান ও একটি প্রাইভেটকার—যার আনুমানিক মূল্য ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা—জোরপূর্বক দখলে নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ২০১৬ সাল থেকে যৌথ মালিকানাধীন একটি ফাউন্ডেশন বাড়ি এককভাবে বসবাস ও গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এস এম সোহেল রানা আরও বলেন, হিসাবের অনিয়মের কারণে বর্তমানে কাকলী ফার্নিচারের নামে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ এবং প্রায় ১ কোটি টাকা পাওনাদারের দায় সৃষ্টি হয়েছে। হিসাব চাইলে প্রতিপক্ষরা তালবাহানা ও হুমকির আশ্রয় নিচ্ছে।
কাকলি ফার্নিচারের কাউন্টারে আমান উল্লাহর বাবা জালাল উদ্দিন ফরাজি সম্প্রতি সোহেল রানাকে বেতের লাঠি দ্বারা অতর্কিত হামলা করে মারধর করেন। এসময় আমান উল্লাহ ও তার সহযোগীরা তেড়ে আসেন। তিনি বলেন, মহামারি করোনা ভাইরাসের সময় ‘দামে কম, মানে ভালো’ স্লোগানে কাকলী ফার্নিচার দেশব্যাপী আলোচিত ও ভাইরাল হয়। অথচ আজ সেই প্রতিষ্ঠানই দেউলিয়ার পথে। দীর্ঘদিনের স্বজনের প্রতারণায় তিনি মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এস এম সোহেল রানা দেশবাসী, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায়বিচারের আবেদন জানান। তিনি তার পিতার সম্পত্তি ও প্রতিষ্ঠানের অধিকার উদ্ধারসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থেকে নীরবে এ দাবির প্রতি সমর্থন জানান।

