পদ্মা সেতু চালুর সাড়ে তিন বছরে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা টোল আদায় হলেও আয় প্রত্যাশিত হারে হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পূর্বাভাস অনুযায়ী যানবাহন চলাচল প্রায় কাছাকাছি থাকলেও বড় বাস ও ট্রাকের সংখ্যা কম থাকায় টোল আয়ে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২২ হাজার যানবাহন পদ্মা সেতু ব্যবহার করছে, যা পূর্বাভাসের তুলনায় সামান্য কম। তবে চলাচলকারী যানবাহনের এক-তৃতীয়াংশই মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি, যাদের টোল হার কম। ফলে প্রত্যাশিত রাজস্ব অর্জিত হচ্ছে না।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, দক্ষিণাঞ্চলে প্রত্যাশিত শিল্পায়ন না হওয়ায় বাণিজ্যিক যান চলাচল আশানুরূপ বাড়েনি। বিশেষ করে মোংলা বন্দর ও বেনাপোল স্থলবন্দর ব্যবহার করে ভারতীয় পণ্য পরিবহন বাড়বে—এই পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হয়নি।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২২ সালে পদ্মা সেতু থেকে ১ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা টোল আদায়ের কথা থাকলেও বাস্তবে বছরে আয় এক হাজার কোটি টাকার কম হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা টোল আদায় করা হচ্ছে।
সরকার নিজস্ব অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ ৩৫ বছরে সুদসহ পরিশোধের চুক্তি রয়েছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ২ হাজার ২০৫ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করেছে। পাশাপাশি টোল আদায় ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হয়েছে ৪১৪ কোটি টাকা এবং সরকার ভ্যাট বাবদ পেয়েছে ৩৮৪ কোটি টাকা।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, সেতু নির্মাণে ব্যয় বেশি হলেও চুক্তি অনুযায়ী ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়ন না হলে যানবাহন চলাচল ও আয় কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাবে না।
বর্তমানে পদ্মা সেতুর টোল আদায় ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে, যার সঙ্গে পাঁচ বছরের জন্য ৬৯৩ কোটি টাকার চুক্তি রয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগ ও ব্যয় নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে নিজস্ব ব্যবস্থায় টোল আদায়ের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ব্যয় সাশ্রয়ে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষের যাতায়াত সহজ করেছে। তবে আর্থিকভাবে প্রত্যাশিত রিটার্ন নিশ্চিত করতে শিল্পায়ন, বাণিজ্যিক পরিবহন ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

