ক্রাইম রিপোর্টার:
রংপুর সদর উপজেলার সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নের পালিচড়া মিনি স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ ও প্রভাবশালী মাদক সিন্ডিকেট।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই স্টেডিয়াম ও আশপাশের গ্রামগুলো এখন চোলাই মদ, গাঁজা, ফেন্সিডিল ও হেরোইনের অবাধ বেচাকেনার নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। দিনের আলোয় খেলাধুলার মাঠ হলেও রাত নামলেই এলাকাটি রূপ নেয় মাদক লেনদেনের হটস্পটে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি, সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নের জয়রাম গ্রামের মোঃ হুজুর আলীর পুত্র মোঃ জামাল মিয়া (৪০), মৃত আব্দুল হাকিমের পুত্র মোঃ সেলিম মিয়া (৩৬), মোঃ লোকমান আলীর পুত্র মোঃ কবিরুল ইসলাম (২৯), মোঃ আবু সামার দুই পুত্র মোঃ আতিকুর রহমান (৪৫) ও মোঃ সুমন মিয়া (৩৫), এবং মোঃ রুস্তম আলীর পুত্র মোঃ সুজন মিয়া(৪৩) এই ব্যক্তিরাই এলাকাভিত্তিক মাদক কারবারের মূল চালিকাশক্তি। অভিযোগ রয়েছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই অতীতে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই চক্রের প্রধান টার্গেট উঠতি বয়সের কিশোর ও যুবকরা। প্রথমে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে মাদক দিয়ে আসক্ত করা হয়, পরে তাদেরই ব্যবহার করা হয় খুচরা বিক্রেতা হিসেবে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক পরিবার ধ্বংসের পথে চলে যাচ্ছে। মাদকাসক্তির কারণে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া, চুরি-ছিনতাই ও পারিবারিক সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
গুরুতর অভিযোগসহ আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে ১নং পালিচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিয়ন কাম নৈশপ্রহরী মোঃ আনোয়ার হোসেন (৪৫)-এর বিরুদ্ধে। তিনি সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নের ফাজিল খাঁ গ্রামের মোজ্জামেল হোসেনের পুত্র। স্থানীয়দের দাবি, এই ব্যক্তি পুরো মাদক সিন্ডিকেটের সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন এবং মাদক সাপ্লাইয়ের ডিলারশিপ পরিচালনা করছেন। একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এই বিষয়ে রংপুর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার শাহনাজ বেগম বলেন, দেখুন আমার আনডারে ২২৩ টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেখানে প্রায় ১৬০০ এর বেশী শিক্ষক-কর্মচারি রয়েছেন। স্কুলের বাইরে কে কি ব্যাক্তিগত কি কাজ করছে তা আমার পক্ষে নজরদারি করা কঠিন। তার পরেও আনোয়ারের নামে যে অভিযোগ উঠেছে আমরা তার তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই সিন্ডিকেট প্রকাশ্যে সক্রিয় থাকলেও কার্যকর কোনো অভিযান চোখে পড়ছে না। কেউ মুখ খুললে হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা। ফলে আতঙ্কে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “সবাই জানে কারা মাদক বিক্রি করে, কোথায় বিক্রি হয়। তবুও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
এ বিষয়ে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন নাগরিকদের মতে, পালিচড়া মিনি স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে অবিলম্বে গোপন নজরদারি, সমন্বিত অভিযান এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় একটি পুরো প্রজন্ম অপরাধ ও নেশার অন্ধকারে হারিয়ে যাবে।

