বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত সম্মানিত ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে স্বীকৃত। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন জনপদে সাধারণ পোশাকে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে সেনা ইউনিফর্ম পরিহিত কিছু ব্যক্তির গতিবিধি নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠী বা উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যরা নিজেদের পরিচয় আড়াল করতে সেনাবাহিনীর পোশাক ব্যবহার করছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে, রাস্তায় চলাফেরার সময় সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম পরে থাকা কিছু ব্যক্তির আচরণ ও পরিচয় নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন বা উগ্রবাদী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কিছু সদস্য এই পবিত্র ইউনিফর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। সমালোচকদের মতে, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া ইউনিফর্মের এমন ব্যবহার শুধু আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতা নয়, বরং সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের অর্জিত ভাবমূর্তির ওপর বড় আঘাত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সেনাবাহিনী কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের অনুসারী নয়; এটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। যদি এই বাহিনীর পোশাক উগ্রবাদী তৎপরতা বা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হয়, তবে তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অশনিসংকেত। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—কেন এই বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না? যদি এসব অভিযোগের কিয়দংশও সত্য হয়, তবে তা জাতির জন্য বড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর কিছু নীরবতা। অনেকের মতে, সেনাবাহিনীর ভেতরে থাকা কোনো স্বার্থান্বেষী মহল বা বাইরের কোনো শক্তির যোগসাজশে এমনটি ঘটা অসম্ভব নয়। সেনাবাহিনীর পবিত্রতা রক্ষা এবং এর চেইন অফ কমান্ডের মর্যাদা বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই বিভ্রান্তি দূর করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত সত্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা জরুরি। সেনাবাহিনী বা রাষ্ট্রযন্ত্রের উচিত কঠোর নজরদারির মাধ্যমে নিশ্চিত করা যে, কোনোভাবেই যেন বেসামরিক ব্যক্তি বা কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পবিত্র এই ইউনিফর্মের অপব্যবহার করতে না পারে।
জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং সেনাবাহিনীর বিশ্বব্যাপী অর্জিত মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

