সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যের পর এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের বক্তব্যে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। সেখানে তিনি নিজেকে ‘স্বৈরশাসক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দাভোসে শীর্ষস্থানীয় সিইওদের সম্মানে আয়োজিত এক নৈশভোজে অংশ নিয়ে ট্রাম্প বলেন, তার ভাষণ ভালো হয়েছে এবং ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। এ সময় তিনি বলেন, অনেকে তাকে ভয়ংকর একনায়ক বলে আখ্যা দেন—এ কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প যোগ করেন, মাঝে মাঝে একজন একনায়কের প্রয়োজন হয়।
এই মন্তব্য এমন এক প্রেক্ষাপটে এলো, যখন গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে ইউরোপীয় দেশ ও কানাডার সঙ্গে টানাপোড়েন চলছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেন, তার বক্তব্য কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিফলন নয়; বরং সাধারণ বোধবুদ্ধির ওপর ভিত্তি করেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন। যদিও এটি প্রথমবার নয়—এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তিনি একনায়কতান্ত্রিক নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন।
২০২৫ সালের আগস্টে ওয়াশিংটনে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক সিদ্ধান্তের সময় ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, অনেক মার্কিন নাগরিক শক্ত হাতে দেশ চালানোর পক্ষে থাকতে পারেন। তখন তিনি বলেছিলেন, তিনি নিজেকে একনায়ক মনে করেন না, বরং ‘সাধারণ জ্ঞানসম্পন্ন একজন বুদ্ধিমান মানুষ’ হিসেবে দেখেন।
বিশ্বের বিভিন্ন স্বৈরশাসক নেতার প্রতি ট্রাম্পের প্রশংসাও অতীতে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি একাধিকবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান নিয়েও তিনি প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেছিলেন।
এছাড়া চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে সম্মানিত নেতা এবং উত্তর কোরিয়ার কিম জং উনকে কঠোর নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন ট্রাম্প। দাভোস সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যেও ন্যাটো মিত্রদের প্রতি তার কড়া অবস্থান এবং গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রসঙ্গ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি করে।
তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে কিছুটা নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই ইস্যুতে সামরিক শক্তি প্রয়োগের চিন্তা নেই এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকিও আপাতত প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরিবর্তে তিনি কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনার কথা বলেছেন।
ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তনে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, তার মন্তব্য ও পররাষ্ট্রনীতির অনিশ্চয়তা নিয়ে সংশয় এখনো কাটেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

