রাজধানীর ফার্মগেট সংলগ্ন গ্রিন রোডে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে। হিজাব-নিকাব নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, অব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বসহ ১৯ দফা দাবিতে গত ১৮ জানুয়ারি (রবিবার) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বয়কট ও অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে।
আন্দোলনের সূত্রপাত ও অভিযোগের পাহাড়
রবিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্লাজা এলাকায় শত শত শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বেসিক সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশীর দীর্ঘদিন ধরে হিজাব ও নিকাব পরিহিত ছাত্রীদের হেনস্তা করে আসছিলেন। নিকাব খুলতে বাধ্য করা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং পরীক্ষায় বৈষম্যমূলক গ্রেডিং দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তোলেন তারা।
এছাড়া ওই বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. এ এস এম মহসিন-এর বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ এনে তারও অপসারণ দাবি করা হয়।

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অবকাঠামোগত সংকট
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল আন্ডারগ্রাউন্ডে (মাটির নিচে) ক্লাস নেওয়া বন্ধ করা। তারা জানান, রোড লেভেল থেকে তিন তলা নিচে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসহীন পরিবেশে ক্লাস করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা ভূমিকম্পপ্রবণ ঢাকায় বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি করে। এছাড়া বিবিএ ডিপার্টমেন্টের স্থায়ী ভবন না থাকা, পরিবহন সংকট এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পদত্যাগের বিষয়েও তারা প্রশাসনের জবাবদিহিতা দাবি করেন।
প্রশাসনের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা ও বর্তমান অবস্থা
শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে গত রবিবার রাতেই অভিযুক্ত দুই শিক্ষক লায়েকা বশীর ও ড. এ এস এম মহসিনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে এতেও শান্ত হননি শিক্ষার্থীরা। তারা ভিসি (উপাচার্য) কামরুল আহসানের পদত্যাগসহ বাকি দাবিগুলো পূরণে অনড় থাকেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়:
“বর্তমান পরিস্থিতি নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য অনুকূল নয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস স্থগিত ঘোষণা করা হলো।”
শিক্ষার্থীদের পরবর্তী অবস্থান
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তারা ক্যাম্পাসে কোনো বিশৃঙ্খলা চান না, তবে ট্রাস্টি বোর্ড (BOT) থেকে দাবি পূরণের সুনির্দিষ্ট ও লিখিত নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তারা পিছু হটবেন না। এদিকে গতকাল ট্রাস্টি বোর্ডের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দলের দীর্ঘ বৈঠক হলেও উপাচার্যের পদত্যাগ প্রশ্নে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
ক্যাম্পাসে বর্তমানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।



