সাভারে পুলিশের জালে ধরা পড়া সিরিয়াল কিলার মশিউর রহমান সম্রাটের জবানবন্দিতে বেরিয়ে এসেছে সমাজের এক অন্ধকার ও বিভীষিকাময় চিত্র। কোনো পাগল বা ভবঘুরেকে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকতে দেখলেই সে নিজে ‘বিচারকের’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতো। সম্রাটের ভাষায়, তাদের শাস্তি হিসেবে সে বেছে নিত অবর্ণনীয় নির্যাতন, যাকে সে কোড ল্যাঙ্গুয়েজে বলত ‘থার্টি ফোর’ বা ‘সানডে মানডে ক্লোজ’।
গ্রেপ্তার পরবর্তী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট জানায়, সে সাভার ও আশপাশের এলাকায় ভবঘুরে বা মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত। কাউকে নির্জন স্থানে ‘অনৈতিক’ মনে হওয়া কোনো কাজ করতে দেখলেই সে হিংস্র হয়ে উঠত। তার দাবি অনুযায়ী, সে তাদের অপরাধের শাস্তি দিতেই এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটিয়েছে। অথচ তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি ছিল তার চরম মানসিক বিকৃতি এবং খুনের নেশা ঢাকার একটি অজুহাত মাত্র।
কী এই ‘থার্টি ফোর’ বা ‘সানডে মানডে ক্লোজ’?
জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট জানায়, তার এই সাংকেতিক শব্দগুলোর আড়ালে লুকিয়ে ছিল মৃত্যু পরোয়ানা।
থার্টি ফোর: সম্রাটের বিশেষ টর্চার স্টাইল বা আঘাতের ধরন।
সানডে মানডে ক্লোজ: অর্থাৎ চিরতরে শেষ করে দেওয়া বা জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেওয়া।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, সম্রাট নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করত। সমাজ সংস্কারের নামে সে যে পৈশাচিক খেলায় মেতে উঠেছিল, তা দীর্ঘ সময় লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকায় জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভবঘুরে বা অসহায় মানুষগুলো সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক হওয়ায় তাদের নিখোঁজ হওয়া বা মৃত্যু অনেক ক্ষেত্রেই আড়ালে থেকে যায়—আর এই সুযোগটিই কাজে লাগিয়েছে সম্রাট।
একজন সিরিয়াল কিলারের এমন ঠান্ডা মাথার স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে, অপরাধী কেবল অপরাধই করে না, বরং সেটি জায়েজ করার জন্য নিজস্ব এক বিকৃত দর্শন তৈরি করে। সম্রাটের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে সমাজের প্রান্তিক এই মানুষগুলোর নিরাপত্তা আরও হুমকির মুখে পড়বে।

