জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক সুযোগ ধরে রাখতে ২০২৬ সালের গণভোটকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই গণভোটে যদি ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত না হয়, তবে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পরিবর্তনের সুযোগ হারিয়ে জাতি আবারো সেই অন্ধকার ও স্বৈরাচারী অতীতে ফিরে যাবে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড় সরকারি অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন আয়োজিত এই সভার মূল বিষয় ছিল ‘গণভোট ২০২৬ প্রচারণা’।
উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গণভোট ২০২৬ কেবল একটি আইনি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার সরাসরি প্রতিফলন। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে জনগণের সরাসরি মতামত প্রদানের এই প্রক্রিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করবে। তিনি মনে করেন, এটি রাষ্ট্র সংস্কারের পথে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।
জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে উপদেষ্টা অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে বলেন: গণভোটে ‘না’ জয়ী হওয়ার অর্থ হলো পুরনো বৈষম্যমূলক ও স্বৈরাচারী ব্যবস্থাকে মেনে নেওয়া।
জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে এবং অতীতের স্বৈরাচারী শাসন থেকে স্থায়ী মুক্তির জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল দেওয়া প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে প্রাপ্ত এই রাষ্ট্র সংস্কারের সুযোগ কোনোভাবেই হাতছাড়া হতে দেওয়া যাবে না।
গণভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, সম্পূর্ণ আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে দিয়ে এই ভোট অনুষ্ঠিত হবে। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তবে এই প্রক্রিয়ার সফলতা নির্ভর করছে সঠিক প্রচারণার ওপর। বিভ্রান্তি এড়িয়ে সাধারণ মানুষের কাছে গণভোটের প্রকৃত উদ্দেশ্য পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসন, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
“গণভোট ২০২৬-এর মাধ্যমে জনগণ শুধু ভোট দেবে না, বরং তারা হবে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ রচয়িতা ও সক্রিয় অংশীদার।”
পঞ্চগড়ের জনগণের সচেতনতার প্রশংসা করে ড. সাখাওয়াত আশা প্রকাশ করেন যে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যান্ডেট অর্জনে উত্তরের এই জেলা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

