মোঃ শরিফ বিল্লাহ,ডোমার উপজেলা প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তরের জেলা নীলফামারীতে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জেলার চারটি সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত ও বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেন। যাচাই-বাছাই ও আপিল প্রক্রিয়া শেষে এখন মোট ৩০ জন প্রার্থী নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রস্তুত।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, তফসিল ঘোষণার পর নীলফামারীর চারটি আসনে মোট ৪০ জন সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে ৩৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। আইনগত যাচাই ও আপিল শুনানি শেষে ৩০ জনের মনোনয়ন বৈধ বলে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এক নজরে চারটি আসনে প্রার্থীর সংখ্যা—
নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা): ১০ জন
নীলফামারী-২ (সদর উপজেলা): ৬ জন
নীলফামারী-৩ (জলঢাকা উপজেলা): ৩ জন
নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ): ১১ জন
নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা)
এই আসনে সবচেয়ে বেশি প্রার্থীর সমাগম দেখা যাচ্ছে। মোট ১০ জন প্রার্থী এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে আছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার, বিএনপি জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি, জাতীয় পার্টির মেজর (অব.) তছলিম উদ্দিন এবং ন্যাপের জেবেল রহমান গানি। পাশাপাশি আপিলে বৈধতা পাওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন রফিকুল ইসলাম।
নীলফামারী-২ (সদর)
সদর আসনে ছয়জন প্রার্থী নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন। এখানে বিএনপি মনোনীত শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনকে প্রভাবশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন জামায়াতের আল ফারুক আব্দুল লতীফ এবং ইসলামী আন্দোলনের হাসিবুল ইসলাম।
নীলফামারী-৩ (জলঢাকা)
এই আসনে প্রার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও প্রতিযোগিতা হবে ত্রিমুখী। বিএনপির সৈয়দ আলী, জামায়াতের মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী এবং ইসলামী আন্দোলনের আমজাদ হোসেন সরকারের মধ্যে মূল লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ)
জেলার এই আসনে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এখানে বিএনপির মো. আব্দুল গফুর সরকার ও জামায়াতের আব্দুল মুনতাকিমের পাশাপাশি জাতীয় পার্টির দুই প্রার্থী মো. সিদ্দিকুল আলম এবং মো. জয়নাল আবেদীন নির্বাচনের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছেন। এ ছাড়া রিয়াদ আরফান সরকারসহ একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর ২১ জানুয়ারি (বুধবার) প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রতীক বরাদ্দের পর ২২ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা।

