মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি:
মাদারীপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে নিহতের লাশ নিয়ে বিক্ষোভ সেই সাথে মানববন্ধন করেন স্বজন ও এলাকাবাসী। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচি পালন করেছেন।
এসময়ে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এর আগে মানববন্ধন থেকে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সমবেত হন।
জানা যায়, গত ১৪ জানুয়ারি মাদারীপুর সদর উপজেলার চরমুগরিয়া এলাকার একটি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন শেষে বাড়ি ফেরার পথে ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের খাতিয়াল গ্রামের বাসিন্দা মোসলেম চৌধুরীর ছেলে আব্বাস চৌধুরী (৪৫) হামলার শিকার হয়েছেন। পথে সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের বাহেরান্দি এলাকায় আসলে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন।
পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দুপুরে আব্বাস চৌধুরীর মৃত্যুবরণ করেন।
আব্বাস চৌধুরীর মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এখন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ মাদারীপুরে আসলে স্বজন ও এলাকাবাসী বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য তোফাজ্জেল হোসেন সান্টু, নিহতের বোন সাহিনুর বেগম, ইকবাল ফরাজী, নিয়ন হাওলাদার ও রাসেল হাওলাদারসহ আরও অনেকে। বক্তারা অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির নিশ্চিতের দাবি জানান।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, আব্বাস চৌধুরী হত্যাকাণ্ডে ঘটনায় নিহতের বোন সাহিনুর বেগম বাদী হয়ে আনোয়ার জমাদ্দারসহ ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

