সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুরঃ
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে আলোচিত দানিয়ূল ইসলাম (৫০) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। পরকীয়া সম্পর্কের জেরে স্বামী হত্যার পরিকল্পনা করে স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি(৪১) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী।দীর্ঘ এক মাসের নিবিড় তদন্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. আনোয়ার হোসেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. আবু বক্কর ওরফে বাদশা (২৬), বাগেরহাট জেলা সদরের উৎকুল গ্রামের মো. মোতালেব শেখের ছেলে। পরকীয়া প্রেমিক মো. শাহ আলম কল্লোল (৫৬), দিনাজপুর সদর উপজেলার উত্তর বালুবাড়ি এলাকার মৃত আলহাজ রজব আলীর ছেলে। মোছা. সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি (৪১), বীরগঞ্জ উপজেলার আরাজি চৌপুকুরিয়া গ্রামের নিহত দানিয়ূল ইসলামের স্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সুলতানা রাজিয়া পপি বিবাহিত ছিলেন এবং তার ঘরে দুটি সন্তান রয়েছে। তদন্তে উঠে আসে, সুলতানা রাজিয়া পপি ও দিনাজপুরের কাপড় ব্যবসায়ী শাহ আলম কল্লোলের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই সম্পর্কের জের ধরেই স্বামী দানিয়ূল ইসলামকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
পরকীয়ায় জড়িত অবস্থায় পপি ও কল্লোল কক্সবাজার সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করতেন বলেও পুলিশ জানায়। হোটেলের রাত্রিযাপন করার জন্যও তারা একটি মিথ্যা কাবিননামা সাথে নিয়ে বিভিন্ন হোটেলরাত্রি যাপন করত।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের অবস্থান খুলনা ও বাগেরহাটে শনাক্ত করা হয়। গত ৮ জানুয়ারি সেখানে অভিযান চালানো হলেও সে সময় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে আবু বক্করের ভাড়া বাসা থেকে একটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে গত ১৬ জানুয়ারি খুলনা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে র্যাব-৬-এর সহযোগিতায় আবু বক্কর ওরফে বাদশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে দিনাজপুর শহরের বালুবাড়ী এলাকা থেকে পরকীয়া প্রেমিক শাহ আলম কল্লোল এবং বীরগঞ্জ উপজেলার আরাজি চৌপুকুরিয়া এলাকা থেকে সুলতানা রাজিয়া পপিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, শাহ আলম কল্লোল ও সুলতানা রাজিয়া পপি যৌথভাবে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে পেশাদার খুনি ভাড়া করেন। গত ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে আরাজি চৌপুকুরিয়া গ্রামে জিন্দাপীর মেলা চলাকালে লোকসমাগম বেশি থাকায় ওই সময়টিকেই হত্যার জন্য বেছে নেওয়া হয়।
তদন্তে আরও জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী পপি দানিয়ূলের বাড়িতে প্রবেশের কৌশল নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করে কল্লোলের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান। পরে আবু বক্কর ও তার সহযোগীরা দানিয়ূলের বাসার চাবি সংগ্রহ করে ভোররাতে গলা কেটে তাকে হত্যা করে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ ঘটনায় শাহ আলম কল্লোল বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
উল্লেখ্য, নিহত দানিয়ুল ইসলাম পেশায় একজন স্বচ্ছল কৃষক ছিলেন। দিনাজপুর শহরের পাহাড়পুর এলাকায় দানিয়ুলের বাসাও রয়েছে। তিনি প্রতি বৃহস্পতিবার করে গ্রামের বাড়ীতে যেতেন। গ্রামে তার প্রায় ১শত বিঘা জমি রয়েছে। দানিয়ুল ইসলামের স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া পপির নিজ নামে প্রায় ২০ একর জমি থাকায় এই পরকীয়া প্রেমে বেশি আসক্ত হয়ে পড়ে। এই ঘটনায় বীরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা বের করা হয়।

