জুলাই অভ্যুত্থানে ঢাকার মোহাম্মদপুরে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও গণহত্যার ঘটনায় সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। রোববার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, জুলাই বিপ্লবের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আজ সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
মোহাম্মদপুর এলাকায় ছাত্র-জনতাকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আজ তদন্তকারী কর্মকর্তা ২৮ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। এই মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন:
শেখ ফজলে নূর তাপস: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র। জাহাঙ্গীর কবির নানক: সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আজ দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
পলাতক আসামিদের জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী: গত ৮ জানুয়ারি ধার্য দিনে আসামিরা আদালতে হাজির না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাদের ‘পলাতক’ বিবেচনা করেছেন। আদালতের নিয়ম অনুযায়ী, পলাতক আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই চালানোর জন্য ‘স্টেট ডিফেন্স’ বা রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই আইনি কাঠামোর মধ্যেই আজ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (Formal Charge) গঠনের শুনানি হবে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আরও যাদের বিরুদ্ধে শুনানি হচ্ছে: আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। মোহাম্মদ আলী আরাফাত: সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী।
শেখ ফজলে শামস পরশ: যুবলীগ সভাপতি। মাইনুল হোসেন খান নিখিল: যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক।
সাদ্দাম হোসেন: কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি। ওয়ালি আসিফ ইনান: কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে কয়েকশ’ মানুষের মৃত্যু ও সহস্রাধিক আহত হওয়ার ঘটনায় এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছিল। তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় ক্যাডাররা নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

