নুরী আক্তার মুন, ডেস্ক রিপোর্ট:
মিষ্টিজাতীয় খাবার সবারই প্রিয়। চকলেট, কেক, আইসক্রিম কিংবা মিষ্টি পানীয় খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা হঠাৎ করে বাড়তে পারে। তবে এই আকাঙ্ক্ষা শুধুই স্বাদের জন্য নয়—এর পেছনে কাজ করে রক্তে শর্করার ওঠানামা, ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ এবং ভুল খাদ্যাভ্যাস। অতিরিক্ত চিনি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর; এটি ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
চিনির প্রতি আসক্তি কমানো একদিনে সম্ভব নয়, তবে ধাপে ধাপে ছোট ছোট পরিবর্তন আনা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের দিনে সর্বোচ্চ ৯ চা চামচ এবং নারীদের সর্বোচ্চ ৬ চা চামচ চিনি গ্রহণ করা উচিত।
চিনির আসক্তি কমানোর কার্যকর উপায়
প্রচুর পানি পান করুন
অনেক সময় শরীরের তৃষ্ণাকে আমরা ক্ষুধা মনে করি। মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা হলে প্রথমেই এক গ্লাস পানি পান করুন।
প্রোটিন ও ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়া
ডিম, মাছ, ডাল, শাকসবজি ও ওটস খেলে পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা থাকে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে।
প্রাকৃতিক মিষ্টি গ্রহণ করুন
কৃত্রিম চিনির বদলে ফল যেমন—আপেল, কলা, বেরি খাওয়া ভালো। ফলে থাকা ফাইবার চিনির শোষণ ধীর করে।
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
৭–৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম শরীরকে যথাযথভাবে পুনরায় চাঙ্গা রাখে এবং মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা কমায়।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন
স্ট্রেস কমাতে নিয়মিত যোগব্যায়াম, হাঁটাহাঁটি বা দীর্ঘশ্বাস নেওয়ার ব্যায়াম করতে পারেন।
হঠাৎ চিনি বন্ধ না করে ধীরে ধীরে কমান
চা বা কফিতে চিনির পরিমাণ ধীরে ধীরে কমানো শুরু করুন।
ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া
বাদাম, কুমড়ার বীজ বা ডার্ক চকলেট ডায়েটে রাখলে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা কমে।
বিকল্প স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন
রাতের খাবারের পর মিষ্টির বদলে ফল খান।
ক্যান্ডি বা চকোলেটের বদলে খেজুর, বাদাম বা ডার্ক চকলেট ব্যবহার করুন।
সোডার বদলে লেবুপানি পান করুন।
মিল্কশেকের বদলে কম চিনিযুক্ত প্রোটিন শেক খাওয়া যেতে পারে।
এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো মেনে চললেই ধীরে ধীরে চিনির প্রতি আসক্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।


