বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ‘স্বাভাবিক নয়’ এবং তিনি কারাগারে ‘স্লো পয়জনিং’-এর শিকার হয়েছিলেন—এমন অভিযোগ দীর্ঘ দিন ধরে করে আসছেন লেখক পিনাকী ভট্টাচার্য এবং বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সাম্প্রতিক সময়ে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের সদস্য প্রফেসর ডা. এফ এম সিদ্দিকী-র একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে।
২০২১ সাল থেকেই পিনাকী ভট্টাচার্য দাবি করে আসছিলেন যে, খালেদা জিয়াকে পরিকল্পিতভাবে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছে। আজ (১৭ জানুয়ারি) তিনি দাবি করেছেন যে, ডাইজেস্টিভ সিস্টেম বা পরিপাকতন্ত্রের বিশেষজ্ঞ প্রফেসর সিদ্দিকী এই পয়জনিংয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পিনাকীর মতে:
উপযুক্ত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও আগে বিষয়টি গুরুত্ব না দেওয়ায় আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করা সম্ভব হয়নি। সময়মতো বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে আজ তাঁর শারীরিক অবস্থা এত অবনতি হতো না।
মির্জা আব্বাসের অভিযোগ: গত ২৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস সরাসরি অভিযোগ করেছিলেন যে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কারাগারে থাকাকালীন খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জনিং’ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এক ভারতীয় সাংবাদিক তাঁকে দুই বছর আগেই এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।
প্রফেসর সিদ্দিকীর অবস্থান: ড. এফ এম সিদ্দিকী এর আগে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়ার পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ (Gastrointestinal bleeding) এবং লিভার সিরোসিস অত্যন্ত জটিল পর্যায়ে রয়েছে, যা সাধারণত এই বয়সে স্বাভাবিকভাবে হওয়ার কথা নয়। যদিও চিকিৎসকরা সরাসরি ‘বিষপ্রয়োগ’ শব্দটি সবসময় ব্যবহার করেন না, তবে তাঁরা এই অসুস্থতাকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
খালেদা জিয়া বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হার্ট ও ফুসফুসের সংক্রমণের পাশাপাশি তিনি নিউমোনিয়ায় ভুগছেন এবং বর্তমানে সিসিইউতে (CCU) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে এই ‘স্লো পয়জনিং’ তত্ত্ব নিয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি উঠছে। পিনাকী ভট্টাচার্যের মতো অ্যাক্টিভিস্টরা মনে করছেন, এখন সঠিক সময় এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন গঠন করার। বিএনপি সম্প্রতি এক বার্তায় জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বক্তব্য ছাড়া অন্য কোনো সূত্র ব্যবহার না করতে।

