বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক (LTO) আজ থেকে মাঠপর্যায়ে তাঁদের কাজ শুরু করেছেন। আজ সকালে রাজধানী ঢাকা থেকে তাঁরা ২ সদস্যের একটি করে দল হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রশাসনিক জেলার উদ্দেশে রওনা হন।
সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিশনের উপ-প্রধান পর্যবেক্ষক ইন্তা লাসে (Inda Lāce) মিশনের কর্মপরিকল্পনা ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান: নিরপেক্ষ মূল্যায়ন: পর্যবেক্ষকরা দীর্ঘমেয়াদি ও সুপ্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন করবেন।
তাঁরা ভোটার, নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রার্থী, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ছাড়াও নাগরিক পর্যবেক্ষক এবং তরুণ কর্মীদের সাথে সরাসরি কথা বলবেন। পর্যবেক্ষকরা কেবল বিভাগীয় বা জেলা শহরেই নয়, বরং ছোট শহর ও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও নির্বাচনী পরিবেশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন।
এই পর্যবেক্ষক দলটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ ছাড়াও কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে আগত বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত। পূর্ণ শক্তিতে এই মিশনে প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক কাজ করবেন।
১১ জন বিশ্লেষকের মূল দল বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। আজ ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মাঠে নামলেন। নির্বাচনের ঠিক আগে আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক তাঁদের সাথে যোগ দেবেন।
মিশন প্রধান এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভার্স ইজাবস (Ivars Ijabs) এর আগে জানিয়েছিলেন যে, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের এই নির্বাচনটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ঐতিহাসিক। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম ইইউ বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ (Fully-fledged) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠালো।
ইন্তা লাসে আজ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তাঁদের লক্ষ্য নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করা নয়, বরং স্থানীয় আইন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে পর্যবেক্ষণ করা। নির্বাচনের দুই দিন পর অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি মিশন তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

