চুলের যত্নে কোরিয়ানদের পাশাপাশি জাপানিরাও বিশ্বজুড়ে পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশেও তরুণদের মধ্যে জে–বিউটি ও কে–বিউটির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। জাপানিদের কেশচর্চার বিশেষত্ব হলো—তারা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও ভেষজ উপাদানের ওপর নির্ভর করেন এবং চুলের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন স্ক্যাল্পের যত্নে। এর ফলেই তাদের চুল হয় শক্ত, প্রাণবন্ত ও স্বাভাবিকভাবে উজ্জ্বল।
জাপানিরা যেসব ধাপে চুলের যত্ন নেন—
চুল ধোয়ার আগে তেল ব্যবহার
জাপানি নারীরা শ্যাম্পু করার আগে স্ক্যাল্প ও চুলে তেল মাখেন। জাপানে বহু বছর ধরে ক্যামেলিয়া অয়েল ব্যবহৃত হয়ে আসছে, যা চুলের পুষ্টি ও আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এই তেল সহজলভ্য না হলে হালকা ও কম ঘনত্বের যেকোনো প্রাকৃতিক তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। শ্যাম্পুর আগে অন্তত ১০ মিনিট তেল মালিশ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
হালকা ক্লিনজিং পদ্ধতি
জাপানিরা চুলের গোড়া পরিষ্কার রাখাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। স্ক্যাল্পে যেন অতিরিক্ত তেল, ধুলো বা ময়লা জমে না থাকে, সেজন্য তারা মাইল্ড ক্লিনজার ব্যবহার করেন। সালফেটমুক্ত শ্যাম্পু এবং কুসুম গরম পানি দিয়ে চুল ধোয়া তাদের নিয়মিত অভ্যাস।
স্ক্যাল্প ম্যাসাজের অভ্যাস
চুল সুস্থ রাখতে স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন ভালো হওয়া জরুরি। তাই নিয়মিত স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করা হয়। আঙুলের ডগা দিয়ে বা স্ক্যাল্প ম্যাসাজার ব্যবহার করে ভেজা চুলে গোলাকার ভঙ্গিতে দুই থেকে তিন মিনিট ম্যাসাজ করলে চুলের গোড়া মজবুত হয়।
কন্ডিশনার ব্যবহার
চুলে আর্দ্রতা ধরে রাখতে কন্ডিশনার ব্যবহার জাপানিদের পরিচর্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার লাগিয়ে কয়েক মিনিট রেখে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলা হয়। এতে চুল নরম থাকে এবং জট কমে।
লিভ-ইন সিরামের যত্ন
যাদের চুল বেশি শুষ্ক, তারা শ্যাম্পু ও কন্ডিশনারের পর লিভ-ইন সিরাম ব্যবহার করেন। এই সিরাম চুলে লাগানোর পর ধোয়ার প্রয়োজন হয় না। এটি চুলকে মসৃণ রাখে এবং সারাদিন চুলে আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

