ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মিলিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মাচাদো তার অর্জিত নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে উপহার হিসেবে প্রদান করেন।
বৈঠকের গুরুত্ব ও উপহার বিনিময় সাক্ষাৎ শেষে মাচাদো এই দিনটিকে ভেনেজুয়েলার মানুষের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক দিন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। ট্রাম্পের সঙ্গে এটিই ছিল তার প্রথম সরাসরি বৈঠক। উল্লেখ্য, গত বছর মাচাদো যখন নোবেল পান, তখন ট্রাম্প এই সম্মাননা না পাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। উপহার পাওয়ার পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধার চমৎকার নিদর্শন’ বলে অভিহিত করে মাচাদোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট হোয়াইট হাউসের বাইরে অপেক্ষারত সমর্থকদের মাচাদো জানান, ভেনেজুয়েলার জনগণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে পারেন। ওয়াশিংটন সফরে তিনি মার্কিন সিনেটরদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন নেত্রী দেলসি রদ্রিগেজের পরিবর্তে মাচাদোর নেতৃত্বাধীন জোটই যে ক্ষমতার প্রকৃত দাবিদার, তা ট্রাম্পকে বোঝানোই ছিল এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।
নোবেল পদক নিয়ে আইনি বিতর্ক মাচাদো তার পদক ট্রাম্পকে দিলেও বিষয়টি নিয়ে আইনি ও কাঠামোগত প্রশ্ন উঠেছে। নোবেল কমিটি ও নোবেল পিস সেন্টার থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, এই পুরস্কার হস্তান্তরযোগ্য নয়। কমিটির মতে, পদকটি হাতবদল হলেও ‘নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী’ উপাধিটি অপরিবর্তিত থাকে এবং তা কখনোই বাতিল বা অন্য কাউকে প্রদান করা যায় না।
ভেনেজুয়েলা ও ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান অবস্থান মার্কিন বাহিনী নিকোলাস মাদুরোকে অপসারিত করার পর ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মাচাদোর সঙ্গে ট্রাম্পের ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এদিকে, মাদুরোকে আটকের পর ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত দেশটির তেলখাত পুনর্গঠনে হাত দিয়েছে এবং ইতিমধ্যে ৫০ কোটি ডলারের তেল বিক্রি করেছে। এছাড়া গতকাল মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার তেল বহনকারী ষষ্ঠ একটি ট্যাংকারও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
এই সফরের মাধ্যমে মাচাদো ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থন নিজের জোটের দিকে টানতে চাইছেন, যা দক্ষিণ আমেরিকার রাজনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
