সরকার দেশের হাওর ও জলাভূমির সংরক্ষণে কঠোর আইন প্রণয়ন করেছে। হাওর বা জলাভূমি অবৈধভাবে দখল, ভরাট, বা পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করলে অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ সংক্রান্ত ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত গেজেটের মাধ্যমে কার্যকর হয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষিত এলাকা লঙ্ঘন, অবৈধ দখল, ভরাটকরণ, অননুমোদিত খনন বা পানির প্রবাহ ব্যাহত করে অবকাঠামো নির্মাণের মতো অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড আরোপ করা হবে। এই ধরনের অপরাধকে ‘আমলযোগ্য’ এবং ‘অ-জামিনযোগ্য’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে হাওর ও জলাভূমি থেকে অনিয়ন্ত্রিত পানি উত্তোলন, মাটি, বালু বা পাথর আহরণ, পরিযায়ী পাখি শিকার, সংরক্ষিত জলজ প্রাণী শিকার, জলাবন বিনষ্ট করা এবং বিষটোপ বা কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমে লিপ্ত হলে দণ্ডনীয় অপরাধ ধরা হবে।
অধ্যাদেশের মাধ্যমে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২০১৬ সালে গঠিত ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর’ কে ব্যাপক ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এখন থেকে হাওর ও জলাভূমি সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে এই অধিদপ্তরের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক হবে। অধিদপ্তর নিশ্চিত করবে যে, প্রস্তাবিত প্রকল্পে পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জনজীবনে কোনো ক্ষতি হবে কি না।
সরকার চাইলে বিশেষ কোনো হাওর বা জলাভূমি ‘সংরক্ষিত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। সংরক্ষিত এলাকায় পানির প্রবাহ বা জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো স্থাপনা থাকলে অধিদপ্তর তা অপসারণ বা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অধ্যাদেশটি সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী এটি অবিলম্বে সারা দেশে কার্যকর হবে।

