চাঁদপুরের মতলব থানাধীন আবুল কাশেম মার্কেট এলাকার একটি ধানি জমি থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার। খড়ের গাদার ভেতর লুকানো অবস্থায় এসব মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে জমিটির বর্গাচাষী মোসলেম মিয়া জমিতে ধান কাটার কাজ করার সময় ঘটনাটি প্রথম লক্ষ্য করেন। পরে তিনি বিষয়টি গোপন না রেখে তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে প্রশাসনের সহায়তা চান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর পুলিশ পরিদর্শক (মিডিয়া ও জনসংযোগ) আনোয়ার সাত্তার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মোসলেম মিয়া জানান, ধান কাটার পর আগেই কেটে রাখা খড় রোদে শুকানোর জন্য তিনি খড়ের স্তুপ নাড়াচাড়া করছিলেন। এ সময় হঠাৎ খড়ের ভেতর লুকানো বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দেখতে পান। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকৃত সম্পদের প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করে আইনগতভাবে হস্তান্তরের জন্য প্রশাসনের সহায়তা চান।
৯৯৯ সূত্রে জানা যায়, মোসলেম মিয়ার ফোন কলটি গ্রহণ করেন ৯৯৯ কলটেকার কনস্টেবল প্রকাশচন্দ্র। পরে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ৯৯৯ ডিসপাচার উপপরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম দ্রুত মতলব থানা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করেন। এর পরপরই মতলব থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে খড়ের গাদার ভেতর থেকে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করে।
পুলিশ উদ্ধারকৃত নগদ অর্থ গণনা করে দেখে, টাকার পরিমাণ মোট ২ লাখ ৩৯ হাজার ২০০ টাকা। পাশাপাশি স্থানীয় একজন স্বর্ণকারের মাধ্যমে স্বর্ণালঙ্কারগুলো পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় জানা যায়, উদ্ধারকৃত স্বর্ণালঙ্কারগুলো ২২ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট ও সনাতন স্বর্ণ মিলিয়ে মোট ৬ ভরি ৪ আনা। এসব স্বর্ণালঙ্কারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার জব্দতালিকা প্রস্তুত করে আদালতের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রকৃত মালিকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এসব মালামাল যথাযথ মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে মতলব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-কে প্রয়োজনীয় তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, বর্গাচাষী মোসলেম মিয়ার এই সততা ও দায়িত্বশীল আচরণ সমাজে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

